নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। রবিবার (৫ নভেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা চ্যানেল আই ও বাসসের নওগাঁ প্রতিনিধি এবং ক্লাবের সভাপতি কায়েস উদ্দিনকে বেদম মারপিট করে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও টেলিভিশন, চেয়ার, টেবিলসহ অন্যান্য আসবাব পুড়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে হামলার পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে সহকর্মীরা আহত সাংবাদিক কায়েস উদ্দিনকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। এ ঘটনায় জেলার সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এই হামলার নিন্দা জানান।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেন জুয়েল জানান, দুপুর ৩টার দিকে সভাপতি কায়েস উদ্দিন ক্লাবে বসে তার দাফতরিক কাজ করছিলেন। এ সময় কথিত সাংবাদিক আজাদ হোসেন মুরাদের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। তারা কেরোসিন ঢেলে আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় হামলাকারীরা প্রেসক্লাবের সভাপতিকে বেদম মারপিট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে আহত সাংবাদিক কায়েস উদ্দিন জানান, ‘কিছুদিন আগে প্রেসক্লাবের সদস্যপদ নবায়ন করা হয়। এতে আজাদ হোসেন মুরাদ নামে ওই কথিত সাংবাদিকের কোনও পরিচয়পত্র না থাকায় তাকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মোবাইল ফোনে কল করে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার দুপুরে সাংগঠনিক কাজ করার সময় প্রেসক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করে আমাকে মারপিট করে অগ্নিসংযোগ করে সে ও তার লোকজন পালিয়ে যায়।’
ঘটনার পর নওগাঁ সদর আসনের এমপি মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মালেক, পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন ও জেলা প্রশাসনের এনডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রেসক্লাব ভবন পরিদর্শন করেন। এমপি আব্দুল মালেক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক।’
পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মামলা হাতে পেলেই আসামি গ্রেফতারে অভিযানে নামবে পুলিশ।’
জেলা প্রশাসক ড. মো. আমিনুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। হামলাকারীরা যত শক্তিশালীই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
এ ঘটনায় কায়েস উদ্দিন বাদী হয়ে আজাদ হোসেন মুরাদসহ ৭-৮ জনকে আসামি করে রবিবার সন্ধ্যায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে ঘটনায় জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়ে রবিবার রাতে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।








