পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিঠাখালি গ্রাম থেকে অপহরণের ছয় মাস পর নয়ন শেখ (১২) নামে ৬ষ্ট শ্রেণির এক স্কুলছাত্র বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে। আদমদীঘি থানা পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং বুধবার রাতে উপজেলার শালগ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে।
আদমদীঘি থানার ওসি মো. ওয়াহেদুজ্জামানের ধারণা, এটা অপহরণ নয়, তালাক দেওয়া স্ত্রীর মামলা থেকে বাঁচতে ও তাকে শায়েস্তা করতে শিশুটির বাবা শহিদুল ইসলাম এ অপহরণ নাটক করেছিল। বৃহস্পতিবার বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় তাকে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল।
পুলিশ জানায়, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মিঠাখালি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নয়ন স্থানীয় সরজনিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। গত ৩ মে সে অপহৃত হয়। অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের দাবির মুখে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। সব টাকা না পাওয়ায় শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানায় জিডি করা হয়। তার বাবা গত ১ নভেম্বর বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে বগুড়ার আদমদীঘি থানা পুলিশ অপহরণকারীদের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে নয়ন শেখের অবস্থান নিশ্চিত হয়। বুধবার রাতে তাকে আদমদীঘি উপজেলার শালগ্রামের আজাদুল ইসলাম নামে এক রাজমিস্ত্রির বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
ওসি ওয়াহেদুজ্জামান জানান, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুর বাবা শহিদুল তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিলে তার স্ত্রী মামলা করেন। এ মামলা থেকে বাঁচতে শহিদুল কিছুদিন আগে নিজের শরীরে এসিড ঢেলে সাবেক স্ত্রীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। শহিদুল নিজে তার ছেলে নয়নকে বগুড়ার আদমদীঘিতে এনে রাজমিস্ত্রি আজাদুল ইসলামের বাড়িতে রাখেন। শিশুটি এতদিন আজাদুলের সঙ্গে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতো।
ওসি আরও জানান, মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ এলে এ অপহরণ রহস্যের উন্মোচন হবে।






