ধানের ফলন বিপর্যয়ে দিশেহারা মহাদেবপুরের চাষিরা

আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ
১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:১৪আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:১৪

ধানের ফলন বিপর্যয়ে দিশেহারা মহাদেবপুরের চাষিরা চলতি আমন মৌসুমে মোটা জাতের ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর কৃষকরা। নতুন ধান ঘরে ও হাটে উঠতে শুরু করলেও ফলন বিপর্যয়ের কারণে হারিয়ে গেছে কৃষকের মুখের হাসি।

নওগাঁয় আমন ধান রোপন মৌসুমের শুরুতেই দেখা দিয়েছিল ভয়াবহ বন্যা। বন্যার কারণে জেলার মহাদেবপুর,মান্দা, রানীনগর, আত্রাই, সাপাহার, পত্নীতলা ও ধামুরহাট উপজেলায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এসব উপজেলায় একেবারে শেষের দিকে আমন ধানের চারা রোপন করে কৃষকরা। যার ফলে চাহিদা অনুযায়ী জমি থেকে ধান পায়নি কৃষকরা। তবে মহাদেবপুরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কৃষি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতায় গড়ে প্রতি বিঘায় ধান কম হয়েছে ৫-৬ মন।

উত্তর গ্রামের কৃষক ময়েন উদ্দীন বলেন, ‘গত বছরের মত এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধে ছিলাম। রোপন থেকে শুরু করে ধান কাটার সময় পর্যন্ত আমন ধানের ক্ষেত ভালই ছিল। কিন্তু বন্যা ও সময়মত কৃষি অফিসের সহযোগিতা না পেয়ে আমি মাঠে মারা গেছি। কম উৎপাদন হওয়ায় মন প্রতি খরচ এক হাজার টাকার ওপরে পরেছে। অথচ বাজারে ধানের দাম এক হাজার টাকার নিচে।’

উত্তরগ্রাম ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ব্লক যদিও উত্তরগ্রাম কিন্তু আমাকে উপজেলা কৃষি অফিসে রিপোর্টসহ দাফতরিক কাজ করতে হয়। শুধুমাত্র প্রদর্শনী প্লট ছাড়া অন্য কিছু আমি মাঠ পর্যায়ে দেখার সুযোগ পাই না। তবে হাতুর ব্লক থেকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব হোসেন মাঝে-মাঝে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।’

ধানের ফলন বিপর্যয়ে দিশেহারা মহাদেবপুরের চাষিরা ধনজইলের কৃষক আক্কাস আলীর অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর ক্ষেতে পচামিনা, ব্লাস্ট, কারেন্ট পোকা ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে সময়মত স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের  মাঠে পাওয়া যায়নি। যার ফলে প্রতি বিঘায় ৫-৬ মন ধান উৎপাদন কম হয়েছে।

ধনজইল ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হক বলেন, ‘আমার ব্লকে আড়াই হাজার কৃষক ধান চাষ করে। আমি গড়ে ১৫০০-১৮০০ জন কৃষকের কাছে যেতে পারি। আমার ব্লকটি বড় হওয়ায় সবার কাছে পৌঁছাতে পারিনি। তবে সব সময় কৃষকের পাশে থেকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

তিনি জানান, মাঠের ধান গাছ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালই ছিল। তারপরেও ধানের ফলন বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিশেষ করে মোটা জাতের ধান শীষ বের হতে শুরু করেছিল, ঠিক সেই সময়ই দুদিনব্যাপী বৈরী আবহাওয়া হওয়ার কারণে ধানের গাছে-গাছে বাড়ি রেগে ফলন বিপর্যয় হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার চৌমাশিয়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘আমরা তিন ভাই মিলে ১৭ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ধানের ক্ষেত ভালই ছিল, কিন্তু ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর আমরা অবাক হয়েছি কারণ, বিগত আমন মৌসুমে প্রতি বিঘায় স্বর্ণা ৫ জাতের ধান সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ২২ মন পর্যন্ত হয়েছিল। আর এবার ১২ মন থেকে ১৫ মন প্রতি বিঘায় ধানের ফলন হয়েছে।’

একই উপজেলার বাগধানা গ্রামের দুলাল হোসেনও একই কথা বলেন। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে স্বর্ণা ৫ জাতের ধান বিঘা প্রতি ৫-৬ মন করে ফলন কমেছে। বিঘা প্রতি খরচ বাড়লেও ধানের ফলন বিপর্যয় হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছি।

মহাদেবপুরে হাটে ধান কিনতে আসা পাইকার আব্দুল লতিফ বলেন, বর্তমানে বাজারে স্বর্ণা ৫ জাতের নতুন ধান প্রতিমন ৯০০-৯৮০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় ধানের দাম বেশি বলে তিনি জানান।

মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ,কে,এম মফিদুল ইসলাম জানান, এবারের আমন মৌসুমে মহাদেবপুর উপজেলায় সর্বমোট ২৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছে উপজেলার কৃষকরা। এর মধ্যে মোটা জাতের ১৮ হাজার ৫ হেক্টর ও চিনি আতব  ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর। তবে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৫৫ হেক্টর। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চাহিদা অনুযায়ী পরামর্শ দিয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এবার মহাদেবপুর উপজেলায় ধানের শীষ বের হওয়ার সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণেই ধানের ফলন কমেছে এবং চিটা বেড়েছে বলে তিনি জানান।

/বিএল/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
বিশ্বকাপের ফিফা অ্যালবামেও সানজয়, ফের নোরা ফাতেহির সঙ্গে কোলাবরেশন
বিশ্বকাপের ফিফা অ্যালবামেও সানজয়, ফের নোরা ফাতেহির সঙ্গে কোলাবরেশন
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম