পাবনার আমিনপুর থানার ঢালারচরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চরমপন্থী নেতা জুলহাস বাহিনীর প্রধান জুলহাস মণ্ডল (৪২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জুলহাস দড়িরচর মণ্ডলপাড়া গ্রামের জসিম ওরফে জেসেম মণ্ডলের ছেলে।
পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম জানান, বেশ কয়েকটি মামলার আসামি ও চরমপন্থী নেতা জুলহাস মণ্ডলকে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউ মার্কেট থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) তাকে পাবনার আমিনপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার সহযোগী ও ব্যবহৃত অস্ত্র গোলাবারুদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় পুলিশকে। এরপর আমিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুকুমার মোহন্তের নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে জুলহাসকে নিয়ে দড়িরচরে অভিযানে যায় পুলিশ। পথিমধ্যে ঢালারচরের বালাজ মেম্বারের মোড় নামক স্থানে জুলহাসকে ছিনিয়ে নিতে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এরই মাঝে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যায় জুলহাস। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জুলহাসকে উদ্ধার করে বেড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের দাবি, বন্দুকযুদ্ধে তাদের চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন, এএসআই ফরিদুল ইসলাম, কনস্টেবল রেজাউল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি দেশি পাইপগান, একটি দেশি পিস্তল, দু’টি রাম দা, ৭ রাউন্ড বন্দুকের গুলি, এক রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি গুলির খোসা, একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত জুলহাস চরমপন্থী দলের আঞ্চলিক নেতা ও জুলহাস বাহিনীর প্রধান ছিল। সে পাবনা, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে আমিনপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া থানায় হত্যাসহ ৯টি মামলা রয়েছে। বুধবার সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে।






