সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী মেকানিকস সানোয়ার হোসেনকে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। বিএডিসি উল্লাপাড়া কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে উল্লাপাড়ায় থানায় মামলাটি করেন। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি আব্দুস সামাদসহ আট জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত সানোয়ার বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি আব্দুস সামাদ সরকার মঙ্গলবার বিকালে বিএডিসির অফিসে গিয়ে তার এক আত্মীয়ের সেচ প্রকল্পের বিষয়ে সহকারী মেকানিকস সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় যা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে গড়ায়। এরপর আব্দুস সামাদ অফিস থেকে বেরিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর তার অনুগামী ১৫/১৬ জন যুবক অফিসে ঢুকে সানোয়ারকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় সানোয়ারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত আব্দুস সামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিএডিসির মেকানিকস সানোয়ার একটি কাজের জন্য তার আত্মীয়ের কাছ থেকে ঘুষ নেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেও কাজ না করায় তিনি প্রতিবাদ করতে ওই অফিসে যান। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সানোয়ারই তাকে কিলঘুষি দেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি সামাদের গায়ে হাত তোলেন। তবে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কারা সানোয়ারকে মারধর করেছে তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সামাদসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতেই আব্দুস সামাদকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তার বাসা ঘেরাও করে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








