রাজশাহীর চারঘাট থেকে এবার র্যাব পরিচয়ে আসাদুজ্জামান (২২) নামে এক মুদি দোকানের কর্মচারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) রাতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তার ভাই বুধবার (২৮ মার্চ) দুপুরে চারঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এদিকে গত শনিবার (২৪ মার্চ) সকালে কালো মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া শিক্ষকের খোঁজও এখনও মেলেনি। ঘটনার পরের দিন তার শ্বশুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
আসাদুজ্জামানের বাড়ি চারঘাট উপজেলার আস্করপুর সরকারপাড়া গ্রামে। তিনি উপজেলার সরদহ বাজারে নজরুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মুদি দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। আর কলেজ শিক্ষকের বাড়ি আস্করপুর পশ্চিমপাড়ায়।
দোকানের মালিক নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এবং দুপুরের বিরতির পর বিকাল সাড়ে চারটা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত তার দোকান খোলা থেকে। দোকান খোলা থাকার পুরোটা সময় আসাদুজ্জামান দোকানেই থাকেন। গত মঙ্গলবার রাতে দোকান বন্ধ করে তার সঙ্গেই আসাদুজ্জামান বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তাদের পাশাপাশি বাড়ি। তিনি বাড়িতে ঢুকেছেন। এমন সময় গোলমাল শুনে বাইরে এসে জানতে পারেন র্যাব পরিচয়ে আসাদুজ্জামানকে তিন-চার জন লোক এসে তুলে নিয়ে গেছে। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছিলেন। আসাদকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়েছে। ওই যুবক তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। তখন তারা পরিচয় দিয়েছেন যে, তারা র্যাব। তখন যুবক আসাদকে ছেড়ে দিয়েছেন।
তবে এ ব্যাপারে র্যাব-৫ এর অধিনায়ক মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের পরিচয় ব্যবহার করেছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার দুপুরের দিকে আসাদুজ্জামানের ভাই মইনুল ইসলাম থানায় একটি খসড়া অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাতে র্যাব পরিচয়ে তার ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে আরও খোঁজ খবর নিয়ে তারা চূড়ান্ত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।’
ওসি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার বিকালে আসাদুজ্জামানের গ্রামের বাড়ির আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাকে অনুসরণ করছিল। তার নম্বরটা নিয়েও আমরা যোগাযোগ করে উদ্ধার করার চেষ্টা করছি। এর পিছনে কী রহস্য জড়িত আছে। তা বের করার জন্য লেগে আছি।’
এদিকে গত শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে চারঘাট উপজেলার অনুপমপুর এলাকা থেকে ডাকরা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শফিকুর রহমান ওরফে উজ্জ্বল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বজরুল ইসলামকেও তুলে নেওয়া হয়েছিল। ওই দিন দুপুরেই বজরুলকে পাবনার দাশুড়িয়া এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি নিরাপদে বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তিনিও বলতে পারেননি যে কারা তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।








