রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার এক এসআই’র বিরুদ্ধে ওসির স্ত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসআই’র নাম মাসুদ রানা। সোমবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজশাহী নগরীর আরডিএ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। ওসি রাজশাহীর আরেকটি থানায় কর্মরত।
ওসি জানান, এসআই মাসুদ রানা তার স্ত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন। এ নিয়ে বোয়ালিয়া থানার ওসির কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। তার স্ত্রী আরডিএ মার্কেটে একটি কসমেটিকসের দোকানে কেনাকাটা করছিলেন। তখন এসআই মাসুদ রানা তার শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে তাকে বিরক্ত করতে থাকেন। একসময় তার স্ত্রী এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘আপনি বারবার আমার শরীর ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন কেন? আমাকে বিরক্ত করছেন কেন?’ জবাবে এসআই মাসুদ রানা বলেন, ‘এটা আপনার জায়গা নাকি?’ একপর্যায়ে তার স্ত্রী তাকে (মাসুদ রানা) বলেন, ‘আমাকে চেনেন, আমি কে?’ জবাবে এসআই মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি পুলিশ। আমার শরীরে লেখা আছে। আপনার শরীরে তো লেখা নাই।’ এরপর ওসির স্ত্রী স্বামীর পরিচয় দেন। পরিচয় পাওয়ার পর এসআই মাসুদ রানা সেখান থেকে দ্রুত সটকে পড়েন।
এসআই মাসুদ রানা বলেন, ‘অভিযোগ কিছুটা ঠিক আছে। আমি আমার স্ত্রীর জন্য একটা ক্লিপ কিনতে দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। ভাবি আমাকে সরে দাঁড়াতে বলেন। আমি বলি, আপনার শরীরে কি টাচ লেগেছে? এই নিয়ে একটু কথাকাটাকাটি হয়েছিল। বিষয়টা নিয়ে আমি লজ্জিত, ব্যথিত, বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে বকাঝকা করেছেন। কিন্তু আমার ওই ধরনের মেন্টালিটি নাই। আমার স্ত্রী একটা ক্লিপ চেয়েছিল। তার আবদার পূরণ করতে চালককে গাড়িটা মার্কেটের সামনে দাঁড় করাতে বলি। তারপর মার্কেটে যাই। এর মধ্যেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে।’
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ওসি বলেন, ‘আমার স্ত্রী ঘটনাটি আমাকে জানানোর পর আমি সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে অবহিত করি। তবে আমি লিখিত কোনও অভিযোগ করিনি। কারণ, আমিও পুলিশে চাকরি করি। এসব ঝামেলায় যেতে চাই না।’
রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর কাছ থেকে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমীর জাফর বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। ঘটনা সত্য হলে অভিযুক্ত এসআইর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







