রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহানের মৃত্যুর ঘটনা পুনরায় তদন্তের আবেদন করেছেন তার ছোট ভাই ও মামলার বাদী কামরুল হাসান। এ বিষয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। রাজশাহী মহানগর মূখ্য হাকিম আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আব্দুস সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিপি আব্দুস সালাম জানান, ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট ওই মামলার চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ব্রজ গোপাল। ওই চার্জশিটে আকতার জাহানের সহকর্মী শিক্ষক আতিকুর রহমানকে আসামি করা হয়। কিন্তু এ চার্জশিটে অনাস্থা জানিয়ে পুনঃতদন্তের দাবি জানান শিক্ষক আকতার জাহানের ছোট ভাই কামরুল হাসান। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এদিকে আকতার জাহানের মৃত্যুর দুই বছর পূর্তিতে রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর)পদযাত্রা ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি মৌন পদযাত্রা বের করেন বিভাগের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পদযাত্রাটি বিভাগের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে ১১টায় বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও পুনঃতদন্তের দাবি জানান।
সভায় অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এটা মৃত্যু নয়; হত্যা। তার দায় আমরা এড়াতে পারি না। তাই শুধু স্মৃতিচারণ করেই হত্যার বিচার চাইলে হবে না বরং একযোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে জোর গলায় বলতে হবে।’
অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ‘তার মৃত্যু কি স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক, তা আমরা আজও জানতে পারিনি। আমরা এ ঘটনার সত্য উদঘাটন করতে চাই। কিন্তু এই ঘটনার বিচারকার্য কতদূর এগুলো তা আমরা আজও জানতে পারলাম না।’
সভা শেষে আক্তার জাহানের কর্ম জীবনের কিছু ছবি নিয়ে তৈরি একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এসময় বিভাগের বিভিন্ন বর্ষে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন, মশিহুর রহমান, শাতিল সিরাজ, মোজাম্মেল হোসেন বকুল, মাহবুবুবর রহমান, সহকারী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন থেকে অচেতন অবস্থায় শিক্ষক আকতার জাহানকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন তার কক্ষ থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর মতিহার থানায় আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন তার ছোট ভাই কামরুল হাসান। ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান রাজাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্রজ গোপাল কর্মকার। কিন্তু ওই চার্জশিটে মিথ্যাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বিভাগের শিক্ষকরা।







