চলতি বছরের শেষ নাগাদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই হিসেবে আর বেশিদিন বাকি নেই। এরই মধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন, করছেন উঠান বৈঠক। এদিক দিয়ে নারীরাও পিছিয়ে নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের ৩৩ শতাংশ নারীকে সরাসরি মনোনয়নের ঘোষণা দেওয়ায় নারীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। এরই মধ্যে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় এলাকার মধ্যে তিনটি সংসদীয় এলাকা থেকে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেত্রীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী ছয়টি সংসদীয় এলাকার মধ্যে তিনটি সংসদীয় এলাকা থেকে সরাসরি মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পবা-মোহনপুর, বাগমারা ও পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসন। পবা-মোহনপুর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি বেগম আখতার জাহান। এছাড়া রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীনও মনোনয়ন প্রত্যাশী।
মর্জিনা পারভীন বলেন, ‘এর আগে দুই দফা আমি পবা-মোহনপুর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। যেইবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা এমপি ছিলেন, সেইবারও আমি তৃণমূলের ভোটে এগিয়ে ছিলাম। এবারও আমি মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করছি।’
বাগমারা আসন থেকে মনোনয়ন পেতে চান সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক জিনাতুননেসা তালুকদার। তিনি এরই মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
পুঠিয়া-দুর্গাপুরের সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য অধ্যাপক নার্গিস সুরাইয়া সুলতানা শেলী। তিনি রাজশাহী জেলা যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও।
নার্গিস সুরাইয়া মনে করেন, তিনি পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য। কারণ তাদের দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। তার পুরো পরিবারই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
নার্গিস সুরাইয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের ৩৩ শতাংশ নারীদের মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণাকে আমি মনে করি নারীর ক্ষমতায়নের বাস্তবায়ন। সেই ঘোষণার পর আমরা যারা ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। তারা জনগণের সেবা করার একটি সুযোগ পেয়েছি। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছি। এরই মধ্যে এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেছি। বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট আকারে উঠান বৈঠক করছি। সেখানে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরছি। তবে প্রচার-প্রচারণা চালালেও দলের হাইকমান্ড থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করবেন।’
এছাড়া বিএনপি থেকে পবা-মোহনপুর আসনে মনোনয়ন পেতে চান সাবেক সাংসদ জাহান পান্না। তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপি থেকে পবা-মোহনপুর সংসদীয় আসন থেকে সরাসরি মনোনয়ন পেতে চাই। আর এজন্য আমি নিজেকে যোগ্যও মনে করি। আমার সংসদ সদস্য হিসেবে অভিজ্ঞতা রয়েছে, ছাত্র অবস্থায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। শুধু তাই না, ওই এলাকার জনগণও আমাকে এমপি হিসেবে চায়।’
এছাড়া বিএনপি থেকে সংরক্ষিত আসনের লড়াইয়ে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শহিদুন নাহার কাজী হেনা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দুইবার নির্বাচিত কাউন্সিলর শামসুন নাহার, রওশন আরা পপি, সামসাদ বেগম মিতালী, অধ্যক্ষ সখিনা খাতুন টুকু ও পারভীন সুলাতানা দুলালী।







