রাজশাহীর পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় নৌকার তিনটি নির্বাচনি কার্যালয় পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে রয়েছে পবার হরিয়ান ইউনিয়নে দুইটি ও গোদাগাড়ীর মোহনপুর ইউনিয়নের একটি কার্যালয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একের পর এক নির্বাচনি কার্যালয় পুড়িয়ে দিচ্ছে।
পবা উপজেলার কাটাখালি পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হযরত আলী বলেন,‘হরিয়ান ইউনিয়নের পলানের মোড়ে একটি ও কাটাখালি পৌর এলাকার সমসাদীপুর গ্যারেজের কাছে একটি নির্বাচনি কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সোমবার নির্বাচনি প্রাচারণা শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেলে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা এ দুইটি কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয় পুড়ানোকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,‘বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জঙ্গি মদদদাতা মিলনের ক্যাডার বাহিনী নৌকার কার্যালয় পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও রাতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট চাওয়ার নামে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’
গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ সভাপতি আজমাইল হোসেন জানান,‘সোমবার দিবাগত রাত ১১টা পর্যন্ত আমরা অফিস ছিলাম। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জানতে পারি আওয়ামী লীগের নির্বাচনি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা গিয়ে দেখি অফিসের সামনে টাঙানো নৌকাটি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং কার্যালয়ের ভেতরে রাখা পোস্টার ও খড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
মোহনপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রহিত কুমার বর্মণ জানান, এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীর সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন,‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনি অফিসে বিএনপির আগুন দেওয়ার ঘটনা মিথ্যা ও বানোয়াট। তারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য আমাদের নামে এসব অপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা নিজেরাই তাদের ভয়ে নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারছি না। উল্টো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আমাদের সামনে বিএনপির পোস্টার ছিড়ে ফেলছে কিন্তু কিছুই বলতে পারছি না।’
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন,‘আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন লাগার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






