সিরাজগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থীদের প্রচার, প্রচারণা ও গণসংযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া সমর্থক ও সাধারণ নেতাকর্মীদের পুলিশ দিয়ে হুমকি, ভয়ভীতি ও মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করারও অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি প্রার্থীদের দাবি, প্রশাসন এসব জেনেশুনেও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই অভিযোগ করেন। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম শিশির, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গাজী আজিজুল রহমান দুলাল, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ খান হাসান, অমর কৃষ্ণদাসসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনের বিএনপি প্রার্থী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, সিরাজগঞ্জ-২ আসন (সদর ও কামারখন্দ) বিএনপি প্রার্থী টুকুর স্ত্রী বেগম রুমানা মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ-৫ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী ডক্টর এম.এ.মুহিত এর আগে টুকুর বাসভবনে পৃথক সংবাদ সন্মেলনে একই অভিয্গ করেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বরাবর কমপক্ষে ১০টি অভিযোগ দিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। তারা শাহজাদপুর ও সদর ওসি এবং পুলিশ সুপারেরও অপসারণ চান।
তবে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ-২ আসন (সদর ও কামারখন্দ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়ের ধুকুরিয়া গ্রামে সংখ্যালঘুর বাড়িতে ককটেল হামলা চালিয়েছে। তারা ১০/১২ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থককে মারধর করেছে। কামারখন্দ, তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও শাহজাদপুরেও হামলা চালিয়ে ১৫/২০ জন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। নির্বাচন পরাজয় জেনে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী ও প্রার্থীরা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরাও জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর কমপক্ষে ২০টি অভিযোগ দিলেও তিনি আমলে নেননি। সদর উপজেলার সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলাসহ ৩টি সন্ত্রাসী ঘটনায় মামলায় বিএনপি-জামায়াতের আসামিদের ধরছে না পুলিশ। ’
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ বলেন, ‘আমরা কাউকেও ভয়ভীতি ও মিথ্যে মামলায় অভিযুক্ত করিনি। গত ১৫ ডিসেম্বর পুলিশের ওপর হামলা, বাধাপ্রদান ও সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট এবং ৪ পুলিশ সদস্যকে মারধর ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির ১৭৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর আগে সংখ্যালঘুর বাড়িসহ যুবলীগ নেতা বেলাল ও মহিলা আওয়ামী লীগ অফিসে ককটেল হামলার ঘটনায়ও ১৮৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ আলী (সদ্য পুলিশ সুপারের পদোন্নতিপ্রাপ্ত) বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। গত ১৫ ডিসেম্বর বিএনপির লোকজনই উল্টো পুলিশের ওপর হামলা ও যানবাহন ভাঙচুর করেছে। এই ঘটনায় মামলাও হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়লে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা হয়নি।








