বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনসার নিয়োগের নামে ৮৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ এপ্রিল) বিকালে ৫৫ জন নারী ও পুরুষ প্রতিকার পেতে লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ ধুনট উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য পৌরসভা ও ১০ ইউনিয়নের ৮৯ কেন্দ্রে এক হাজার ৬৮ জন আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়। প্রত্যেক আনসার আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পাওয়ার কথা। ধুনট সদর ইউনিয়নের মাঠাপাড়া গ্রামের আছের উদ্দিন শেখের ছেলে হায়দার আলী, তার স্ত্রী জুলেখা খাতুন ও ছেলে রুবেল হোসেন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়ার নামে একই গ্রামের ৫৫ নারী ও পুরুষের কাছে মোট ৮৬ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলন করেন।
মাঠপাড়া গ্রামের ফারুক আহমেদের স্ত্রী মায়া খাতুন অভিযোগ করেন, নির্বাচনি ডিউটি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে হায়দার আলীর স্ত্রী জুলেখা খাতুন তার কাছ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা নিয়েছে। কিন্তু ডিউটি না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা করছে।
একইভাবে মাঠপাড়া গ্রামের শাহজামাল, মুন্নি খাতুন, বিলকিস বেগম, ইসমত আরা বেগম ও হাসিনা বেগমসহ ৫৫ জন নারী-পুরুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হায়দার আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা। হায়দার আলী ফোন বন্ধ ও পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধুনট উপজেলা আনসার ভিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিনা বেগম বলেন, ‘আনসার নিয়োগে কোনও অনিয়ম হয়নি। তবে আনসার নিয়োগের নামে হায়দার আলী কেন টাকা নিয়েছে তা জানা নেই।’
ধুনট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লাল মিয়া জানান, নির্বাচনে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে একটি প্রতারক চক্র অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করতে ধুনট থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








