প্রায় ২২ ঘণ্টা পর শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাতে বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই দলীয় অফিসের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।’ সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন জানান, তালা খুলে দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি দেখা দেয়। তবে জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারেক রহমান নয়, কেন্দ্রের নির্দেশে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সভা চলছিল। সভায় বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন সাইফুলের সমর্থক হিমু ও পরিমল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তাদের দু’জনকে দলীয় পদ থকে অব্যাহতি ও সাইফুল ইসলামকে শোকজ করেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুইয়া জুয়েল এক নির্দেশে হিমুর সভাপতির পদ স্থগিত করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে সাইফুল, হিমু ও পরিমলের সমর্থকরা বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শহরে নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। সেখানে বিভিন্ন লেখা সম্বলিত পোস্টার লাগিয়ে নেতাকর্মীরা গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। দুই নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শুক্রবার বিকালেও দলীয় কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। এ ঘটনার জন্য বগুড়া-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সংস্কারপন্থী খ্যাত গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে দায়ি করে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া দুই নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তালা খুলে দেন। এ সময় জানানো হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে কেন্দ্র হিমু ও পরিমলের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এ ব্যাপারে তারেক রহমান কোনও নির্দেশ দেননি। কেন্দ্রীয় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা অবিলম্বে অফিসের তালা খুলে দিতে ও প্রতিবাদ সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দেন। অন্যথায় এসবের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সবাইকে বুঝিয়ে তারা খুলে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘তারেক রহমান কোনও নির্দেশ বা আশ্বাস দিয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। কেন্দ্রীয় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বিবেচনার আশ্বাস ও তালা খুলে দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে বলেন। তাই পরিমল, হিমু ও আন্দোলনকারীদের ডেকে এনে আলোচনার পর তাদের মাধ্যমে অফিসের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।’






