চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীদের

আনোয়ার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
১১ আগস্ট ২০১৯, ১২:১০আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৯, ১২:১১

চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীদের ভালো নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও, এখনও চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিতে পারেননি তারা। ট্যানারি মালিকদের কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া, মূলধন সঙ্কট আর ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় কাঁচা চামড়া কেনা নিয়ে তাদের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় চামড়া নষ্ট ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মে সীমান্ত দিয়ে পাচারের আশঙ্কা করছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, উত্তরের সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ বছর আগেও চামড়ার আড়ৎ ছিল ৭০ থেকে ৯০টির মতো। এখন কমতে কমতে সে সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৩টিতে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এসব চামড়ার আড়ৎ জমজমাট থাকলেও এবার নেই কোনও তোড়জোড়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানকার কাঁচা চামড়া তারা বিক্রি করেন নাটোর ও ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। কিন্তু, গত কয়েক বছর ধরে তাদের কাছে পাওনা রয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা। এতে পুঁজি হারিয়ে সঙ্কটে পড়েছেন তারা। সুবিধা পাচ্ছেন না ব্যাংক ঋণেরও। এ অবস্থায় এবার কাঁচা চামড়া কেনার আগ্রহ নেই তাদের।
জেলা শহরের নিমতলা মহল্লার চামড়া ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে তার ৬০ লাখ টাকা পাওনা। ঈদের আগে বকেয়া দেওয়ার কথা থাকলেও তারা কোনও টাকা দেননি। তাই এবার চামড়া কিনবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীদের আরেক ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, টাকা না থাকলে কীভাবে চামড়া কিনবো? ৩০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে নাটোরের ট্যানারি মালিকদের কাছে। পুঁজি হারিয়ে এখন আমরা দিশেহারা।
চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, গরুর চামড়া ২০০-১০০ টাকা, ছাগলের চামড়ার দাম ১০-১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তারা অনেক কষ্টে আছেন কারণ তাদের পুঁজি নেই। সব ব্যবসায়ী চিন্তিত, এই কোরবানিতে তারা কীভাবে চামড়া কিনবেন?
এ অবস্থায় শুধু ব্যবসায়ীরা নন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই আয় থেকে চলা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে থাকা এতিমরাও। ব্যবসায়ীরা জানান, এতিমদের সারা বছরের খরচের অর্ধেক এই চামড়া থেকে আসে। যে কারণে তাদের রক্ষা করতে হলে সরকারকে এই ব্যাপারে সহযোগিতা করতে হবে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এবার জেলার কোরবানির পশুর চামড়ার বেশিরভাগই দাম না পেয়ে হয় পঁচে নষ্ট হবে আর না হয় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মে সীমান্ত দিয়ে পাচার হবে। এ অবস্থায় চামড়া সঠিকভাবে কিনতে না পারলে শুধু বড় ধরনের লোকসানই না, এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের রফতানিজাত এই শিল্প।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুঞ্জুর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ট্যানারি মালিকদের কাছে জেলার চামড়া ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকা পাওনা আছে। বিগত বছরগুলোতে ৫/১০ শতাংশ টাকা দিলেও; ২০১৮ সালের দেওয়া চামড়ার কোনও টাকাই দেননি ট্যানারি মালিকরা। আমরা ব্যবসায়ীরা আশায় ছিলাম হয়তো কিছু টাকা পাবো, যা দিয়ে এবার চামড়া কিনতে পারবো। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, ট্যানারি মালিকরা এবার কোনও ব্যাংক লোন পাননি এই অজুহাতে আমাদের সম্পূর্ণ খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়। এতে আমরা এখন পুঁজি সঙ্কটে পড়েছি। তাই এবার কোনও চামড়া আমরা কিনতে পারবো না। উল্টো দেনার দায়ে ফেঁসে গেছি। যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে আমাদের এই ব্যবসা ছেড়ে এবার অন্যকিছু ভাবতে হবে।’
এ অবস্থায় তৃণমূলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে ও চামড়া ব্যবসার সুদিন ফিরিয়ে আনতে নতুন বাজার সৃষ্টিতে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দীনের। তিনি বলেন, ‘লবণের দাম সহনীয় করতে হবে। পাশাপাশি চামড়ার বাজার ভালো করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। তা না হলে এ শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।’
এদিকে সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচাররোধে সব বিওপিকে কড়া নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ৫৯ বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মির্জা মাঝহারুল ইসলাম। তিনি বলেন,‘অবৈধভাবে ভারতে চামড়া পাচাররোধে হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের সমন্বয় করে সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের অধীনে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে আমরা সমন্বয় করেছি। যাতে একে অপরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে অবৈধ পাচার কার্যক্রম রোধ করতে পারি। ’
জেলা পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে কোরবানির পশুর চামড়া পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ঈদের দিন থেকে চামড়াবোঝাই কোনও ট্রাক বা পরিবহনকে সীমান্ত অভিমুখে যেতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলার চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ঈদের দিন চামড়া সংগ্রহের পর এক সপ্তাহের মধ্যেই এর প্রাথমিক কাজ শেষ করতে হবে ব্যবসায়ীদের। এরপর ২০ থেকে ২২ আগস্টের মধ্যে জেলার সব চামড়া ঢাকা ও নাটোরের মোকামগুলোতে পাঠিয়ে দেবেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ঈদের দিন সকাল থেকেই কেউ চামড়াবোঝাই পরিবহন নিয়ে সীমান্ত অভিমুখে যেতে পারবেন না।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এজেডএম নুরুল হক বলেন, ‘চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে লবণের প্রয়োজন হয়। সেটি যদি কেউ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ায় এবং ব্যবসায়ীরা এক্ষেত্রে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ১ লাখ ৫৪ হাজার পশু কোরবানি হয়েছিল। এবার পশু কোরবানির টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার।

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সৌদি থেকে ফিরেছেন ২৫৩৭৭ হাজি, মৃত্যু বেড়ে ৪৫
সৌদি থেকে ফিরেছেন ২৫৩৭৭ হাজি, মৃত্যু বেড়ে ৪৫
পশ্চিমবঙ্গে যেকারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
কী, কেন, কীভাবেপশ্চিমবঙ্গে যেকারণে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত রক্ষাকর্তা’ খোদ বিজেপি
বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না পানির বোতল
বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না পানির বোতল
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম