বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেল লাইনের ওপর প্রতিদিন কাপড়সহ বিভিন্ন প্রসাধনীর মার্কেট বসে। ট্রেন আসার আগে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য সরিয়ে নেন। এ মার্কেটের কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। রেল বিভাগ থেকে মাঝে-মাঝে উচ্ছেদ করা হলেও আবারও দোকান বসে। বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ট্রেন এলেও ব্যবসায়ীরা টের পাননি। চালকের সতর্ককতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে লাইনের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক নারীসহ তিন জন আহত হয়েছেন। বগুড়া স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আক্তারুন্নাহার লিপি এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বগুড়ার রেল স্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্রসিংয়ের প্রয়োজনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী আন্তঃনগর লালমনি এক্সপ্রেস বুধবার সকাল ১১টার দিকে স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে থামে। এ সময় দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা সান্তাহারগামী চোলনচাঁপা আন্তঃনগর ট্রেন এলে সিগন্যাল ও পয়েন্ট ঠিক করে ২ নম্বর লুপ লাইনে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। হঠাৎ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানেন ট্রেন ১ নম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা ওই লাইন থেকে মালামাল সরিয়ে নেন। কিন্তু, দোলনচাঁপা ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে ২ নম্বর লাইন দিয়ে আসতে থাকে। টের পেয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল ফেলে দৌড়ে পালাতে থাকেন। ট্রেনের চালক টের পাওয়ায় গতি কমিয়ে থামিয়ে দেন। এ সময় লাইনের ওপর থাকা ব্যবসায়ীদের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। ৩-৪ জন আহত হলেও অল্পের জন্য কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
স্টেশন মাস্টার আরও জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গায় সবসময় ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও কেউ মানেন না। সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের ওপর অবৈধ দোকান বসার কারণে অনেক সময় ঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয় না। অথচ ট্রেন চলাচলের মূল বিষয়টি সিগন্যাল ও পয়েন্টের ওপর নির্ভর করে।
বগুড়া স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী শাহীন আলমের অভিযোগ, রেল লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী ইন্সপেক্টর রায়হান কবিরের কারণেই লাইনের ওপর হঠাৎ মার্কেট গড়ে উঠেছে। তিনি কোনও ব্যবস্থা না দিয়ে দোকানদারদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।
রায়হান কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘লাইনের ওপর মার্কেট বসার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন।’
বগুড়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আকতারুন্নাহার লিপি জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আশপাশের লোকজন বলেছেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫) ছাড়াও তিন জন আহত হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা তাদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া স্টেশনের পূর্ব পাশে এক নম্বর ঘুমটি পর্যন্ত রেল লাইনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে তিন শতাধিক কাপড় ও অন্যান্য দোকান বসে। ট্রেন এলে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য সরিয়ে নেন। এ জন্য স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন ‘হঠাৎ মার্কেট’। রেল বিভাগ ১৯ নভেম্বর অভিযান চালিয়ে ওই মার্কেট উচ্ছেদ করলেও দুদিন পর আবারও দোকান বসানো হয়।







