জয়পুরহাটে দু’জন করোনা রোগী শনাক্তের পর গত বৃহস্পতিবার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও কোনও কাজ হচ্ছে না। হাটবাজারগুলোতে এখনও মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে আক্কেলপুর উপজেলার পৌর সদরের কলেজ মাঠ কাঁচা বাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। লকডাউন উপেক্ষা করে এবং সামাজিক দূরত্ব না মেনে হাজার হাজার মানুষ সেখানে কেনা-কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাস্কও দেখা যায়নি অনেকের মুখে।
প্রতিদিন পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউ তা মানছেন না।
আক্কেলপুরের স্থানীয় সংবাদকর্মী সফিউল আলম বলেন, 'সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পাশাপাশি জেলাকে লকডাউন ঘোষণার পর প্রশাসন নানাভাবে মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মানুষ শুনছেন না। বাজারে অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। মানুষ সচেতন না হলে ভয়াবহরূপে জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমিত হবে।’
আক্কেলপুর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, 'সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। মানুষ কথা শুনতেই চায় না। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চত করতে বাজারে তিন ফুট দূরত্বে গোল চিহ্নও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়েক দফায় জরিমানাও করা হয়েছে। এর পরও বাজারে মানুষের ভিড় কমছে না।'
আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘কাঁচামাল বেচাকেনার জন্য আক্কেলপুর কলেজের বিশাল মাঠে ব্যবস্থা করা হলেও মানুষের ভিড় কমানো যাচ্ছে না। প্রতিদিন সকালে সামাজিক দূরত্ব না মেনে সেখানে মানুষ মালামাল বেচা-কেনা করেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত বাজারে মানুষের ভিড় দেখে নিজেরই ভয় লাগে।' তিনি বলেন, 'প্রশাসন বারবার উদ্যোগ নিয়েও ওই বাজারের ভিড় কমাতে পারেনি।'
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ব্যস্ততার কারণ দেখানোই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
জয়পুরহাটে গত কয়েকদিনে ১৮১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এবং দুই জনের পজিটিভসহ ৮৬ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। জেলায় আজ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৮৬ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঁচ এবং আইসোলেশনে আছেন ১৩ জন রোগী।








