স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদের কথা মাথায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের এমন কিছু করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তা দেখে আরও ভালো কিছু করতে অনুপ্রাণিত হয়। এক্ষেত্রে কাজের মান নিয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (১৩ মার্চ) রাজশাহী সার্কিট হাউজে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় রাজশাহী বিভাগে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনেক ত্যাগ ও তিতীক্ষার মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীন করেছেন। আমাদের এ প্রিয় দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুই দেখিয়েছিলেন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কোনও লোক পিছিয়ে থাকবে না। আমরা বিভিন্ন জন বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। তাই আমাদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনও প্রকল্পেরই আউটপুট থাকতে হবে। স্থান ভেদে সময় বান্ধব প্রকল্প হাতে নিতে হবে এবং গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে কোনও প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে না।
এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থার কর্মকর্তাগণ রাজশাহী বিভাগের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যানে সব কাজ করছেন রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহীর উন্নয়ন কাজ যেভাবে চলছে, আগামীতে রাজশাহী দেশসেরা অনন্য মহানগরীতে পরিণত হবে।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কাদিরগঞ্জে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরে পুষ্পস্তক অর্পণ করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। এরপর নগরীর ১২ রাস্তার মোড়ে ফলক উন্মোচন করে ১৮৯ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ে মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক হতে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত আলিফ লাম মিম ভাটার মোড় থেকে বিহাস পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭৯৩ কিলোমিটার চার লেন সংযোগ সড়কের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
উল্লেখ, প্রকল্পের আওতায় ফোরলেন সড়কের দুই পাশে ফুটপাথ, একটি ব্রিজ, আটটি কালভার্ট, মিডিয়ান ও ট্রাফিক কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় ২৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩২ টাকা ব্যয়ে ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য র্যাম ২০২ দশমিক ৫০ মিটারের ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। রাজশাহীর প্রথম ফ্লাইওভার নগরবাসীর নজর কেড়েছে।
সড়ক উদ্বোধনের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রাসিকের আধুনিক সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) কার্যক্রম, ১৬৪ কোটি ১৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে আলুপট্টি মোড় থেকে তালাইমারি মোড় পর্যন্ত সড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণ, সড়কের দুই পাশে ২.২০ মিটার চওড়া ফুটপাথ এবং আইল্যান্ড নির্মাণ কাজ, ১৬ তলা বিশিষ্ট সিটি সেন্টার নির্মাণ, ঐতিহ্যবাসী সোনাদিঘি সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন কাজ, মনিচত্বর থেকে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। এছাড়া ১২৬ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে উপশহর থেকে নগর ভবন, মালোপাড়া মোড় হয়ে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় নগর ভবন থেকে মহিলা কলেজের সামনে হয়ে মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি হয়ে রাণীবাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ এবং নাহার একাডেমি এলাকায় ড্রেনের পাশে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সড়ক পরিদর্শন করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রী পদ্মপাড়ে শাহ মখদুম মাজারের সামনে দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ পরিদর্শন করেন। এরপর হযরত শাহ মখদুম মাজার জিয়ারত করেন। এরপর কয়েরদারা এলাকায় ড্রেনের পাশে নির্মিত সড়ক এবং রাসিক কর্তৃক সৌন্দর্যবর্ধনকৃত সপুরা বিসিক মঠপুকুর পরিদর্শন করেন তিনি।









