রামেক হাসপাতালে চার দিনের ব্যবধানে ১৪ নার্সের বদলি আদেশ

রাজশাহী প্রতিনিধি
২৫ মার্চ ২০২১, ১৯:১১আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২১, ১৯:১১

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চার দিনের ব্যবধানে ১৪ জন নার্স বদলির আদেশ পেয়েছেন। এরমধ্যে একজনের বদলির আদেশ বাতিল হলেও বাকিদের আদেশ বলবৎ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর তদন্তে এর সত্যতা না মেলায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর।

গত ১৯ জানুয়ারি মামুন-অর-রহমান নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন এক ভুক্তভোগী নার্স। এরপর অভিযুক্ত ডাক্তার হাসপাতাল পরিচালকের কাছে তাৎক্ষণিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে বলে সে সময়ে জানা গিয়েছিল। কিন্তু, এ বিষয়ে গঠন করা তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পায়নি। এতে ভুক্তভোগী নার্স আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নার্সরা জানান, এরমধ্যেই গত বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) ওই নার্সসহ তার সহযোগী ৩ জনকে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি আলোচনায় আসলে ১৯ মার্চ ভুক্তভোগী নার্সের বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। কিন্তু, এর তিন দিন পর ২২ মার্চ ভুক্তভোগী সেই নার্স আইনের আশ্রয় নেওয়ার দিনই এ ঘটনার প্রতিবাদকারী আরও ১১ জন নার্সকে বদলি আদেশ দেওয়া হয়।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সিদ্দিকা আক্তার ও পরিচালক (প্রশাসন ও শিক্ষা) মোহাম্মদ আবদুল হাই এ বদলি আদেশ স্বাক্ষর করেন।

১৮ মার্চের বদলি আদেশে কোনও কারণ উল্লেখ না থাকলেও ২২ মার্চের বদলি আদেশে বলা হয়, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কাজ অব্যাহত রাখা এবং করোনা মোকাবিলায় আগত রোগীদের সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষে বর্তমান কর্মস্থল থেকে শূন্য পদে বদলি/পদায়ন করা হলো। বদলি আদেশে ১১ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ২ জনকে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করতে বলা হয়েছে।

বদলির এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নার্স, বদলিকৃত নার্স ও তাদের সংগঠন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতাল শাখা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বুধবার (২৪ মার্চ) বদলিকৃত নার্সদের সপদে বহালের দাবি জানিয়ে রামেক হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার কাছে আবেদন করেছেন।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতাল শাখা সূত্রে জানা যায়, যৌন হয়রানির এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নার্সের পাশে দাঁড়ানো মানুষগুলোকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী এই নার্সকে যৌন হয়রানির করে চিকিৎসক মামুন-অর-রহমান। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই কমিটি সাংবিধানিক নিয়মকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে তৈরি করা হয়। প্রথম থেকেই এ কমিটির মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব নয় বলে তারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নেয়। আদালত পিআইবিকে ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।

আরও জানা যায়, এ ঘটনায় নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন সবসময় ভুক্তভোগীর পাশে ছিল। এর ফলশ্রুতিতে প্রথমে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদককে বদলি করা। পরে সেটি বাতিল করা হয়। এর কিছুদিন পরে ভুক্তভোগী সেই নার্সসহ আরও দুইজনকে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে আসলে ভুক্তভোগী নার্সের বদলি বাতিল করা হয়। কিন্তু, আবারও ১১ জনকে বদলি করা হয়েছে। যারা প্রত্যেকে সেই সময় যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এ ঘটনায় এমন বদলিকে অযৌক্তিক ও অনিয়মতান্ত্রিক দাবি করে স্বপদে বহাল রাখার আবেদন জানিয়েছে, বদলিকৃত নার্সরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতাল শাখার সভাপতি শাহাদাতুন নূর লাকি জানান, এ ঘটনাটি সত্যি দুঃখজনক এবং অপ্রত্যাশিত। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় এমনটা হচ্ছে। বদলি আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি স্বাস্থ্য সেবা কাজ অব্যাহত রাখা এবং করোনা মোকাবিলায় আগত রোগীদের সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষে এদেরকে বদলি করা হচ্ছে। রামেক হাসপাতালে কী করোনা রোগীদের সেবা দেওয়া হয় না? অথচ এই নার্সরা করোনার সময় এখানে জরুরি সেবা দিয়ে এসেছে। এসময় তিনি বদলিকৃত নার্সদের স্বপদে বহাল রাখার দাবি জানান।

এর আগে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেছিলেন, বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আজ এখানে আছে কাল অন্য জায়গায় থাকবে এটাই নিয়ম। আর যারা আন্দোলন করছে এ বিষয়গুলো ডিজি নার্স দেখাশোনা করেন। তদন্ত চলাকালীন আন্দোলন করলে বদলি করে দেওয়া হবে এটা নার্স ডিজি বলেছেন। এখানে আমাদের কোনও হাত নেই। আর আমরা বদলি করাই না। এটা ডিজি হেলথ করে থাকে।

এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও শিক্ষা) মোহাম্মদ আবদুল হাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মামুন-অর-রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানেসথেসিয়ার ওপর কোর্স করছিলেন এবং কোর্সের অংশ হিসেবে রামেক হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ডা. মামুন চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করছেন। ছুটি নিয়ে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অ্যানেসথেসিয়া কোর্স করছিলেন। রামেকে অস্থায়ী অব্যাহতির আগ পর্যন্ত তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) প্রশিক্ষণের কাজ করছিলেন। সেখানেই যৌন হয়রানির ঘটনাটি ঘটিয়েছেন গত ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি। পরদিন তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর গঠন করা হয়েছিলো পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। তদন্ত শেষে রামেক হাসপাতালের প্রশিক্ষণ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া অ্যানসথেসিয়ার কোর্স থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সুপারিশ করা হয়েছিল।

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান