৯ মাসের সোহান কিছুদিন ধরেই ঠাণ্ডায় ভুগছিল। তাকে সুস্থ করতে মা সুলতানা বেগম ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার দেখিয়ে মায়ের কোলেই বাড়ি ফিরছিল সে। কিন্তু সোহানের আর বাড়ি ফেরা হয়নি। তার আগেই ঘাতক ট্রাকের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে প্রাণ হারায় সে।
নাটোরের লালপুর উপজেলার শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। মায়ের চোখের সামনেই ট্রাকের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে মারা যায় সে। চোখের সামনে আদরের সন্তানের মৃত্যু দেখে সহ্য করতে পারেননি মা। ঘটনার পরপর তিনি জ্ঞান হারান। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
স্থানীয় ও সোহানের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে হয় উপজেলার গৌরিপুর এলাকার নবীনগর গ্রামের সবুজ আলী ও সুলতানা বেগমের। ৯ মাস আগে ঘর আলো করে আসে সোহান। বাড়ির সবার আদরের ছিল সে। সম্প্রতি জ্বর-সর্দিতে ভুগছিল সে। পল্লী চিকিৎসক দেখিয়ে ফল না হওয়ায় শুক্রবার লালপুর বাজারে সোহানকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যায় তা মা। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে সুলতানা বেগম সোহানকে কোলে নিয়ে ব্যাটারি চালিত ভ্যানে করে বাড়ির পথে রওনা হয়। পথিমধ্যে লালপুর-ঈশ্বরদী সড়কের নবীনগর এলাকার বাদুরঝোলা বটতলা স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট- ১১- ৭৫৫৫) ভ্যানকে চাপা দেয়। এসময় সোহানসহ তার মা ভ্যান থেকে রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর ট্রাকটি চাপা দেয় শিশুটিকে। চোখের সামনে সন্তানের নির্মম মৃত্যু দেখে চিৎকার দিয়ে সুলতানা অজ্ঞান হয়ে যান। স্থানীয় লোকজন আহত সুলতানা ও অপর যাত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
লালপুর থানার ওসি আব্দুল হাই তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক ট্রাক ও এর চালক রোকন আলীকে (২৫) আটক করেছে তারা।
/এসটি/








