আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল, জনগণের রায়ে ক্ষমতায় আছে। বিএনপি যাতে আন্দোলনের নামে দেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল বা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগ রাজপথে আছে। আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকবো।
বিএনপির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, অপরাজনীতি, চক্রান্ত ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের উদ্যোগে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, বিএনপি নেতৃত্বের দেউলিয়ায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বিএনপি নির্বাচনে যেতে ভয় পায়। কারণ বিএনপি জানে তারা নির্বাচনে জিততে পারবে না।
বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আজকে বিএনপি পদযাত্রা করছে। এরআগেই দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সমাবেশের নামে তারা পিকনিক করেছে। আপনারা বলেছিলেন, ‘১০ ডিসেম্বরের পর থেকে বাংলাদেশ বিএনপির কথায় চলবে।’ কোথায় গেল আপনাদের সেই কথা? এখনও তো শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী আছেন। তাহলে বিএনপির ভাই-বোনেরা আপনাদের মুখ থাকে আর? সেজন্য বলতে চাই এটি তো পদযাত্রা নয়, শবযাত্রা। এভাবে আর যাই হোক শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো কোনদিন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, আজকে বিএনপির এক নেতা মন্তব্য করেছেন, ‘যেদিন আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করবে, আমাদের যদি জানিয়ে দেওয়া হয়, সেদিন আমরা পদযাত্রা কর্মসূচি দেবো না।’ বিএনপির সেই নেতার উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকলে আপনাদের অসুবিধা কী? জনগণের জান-মালের ক্ষতি করতে সুবিধা হয়? দোকানপাট লুটপাট-ভাঙচুর করতে সুবিধা হয়? আগুন দিতে সুবিধা হয়? যেটা আপনারা করেছেন ২০১৪/২০১৫ সালে, সেটা পুরো বাংলার মানুষ জানে, সারা পৃথিবীর মানুষ জানে। সেটি আর হতে দেওয়া হবে না।
তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, তার সম্পর্কে বলার মতো মানসিকতা আমার নেই, তারপরেও বলতে চাই, ৮ হাজার মাইল দূরে লন্ডনে বসে থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে আর যাই হোক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো যাবে না, ঘরেও ঢোকানো যাবে না। রাজনীতি করার যখন এতই শখ, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যখন এতই লালায়িত, তাহলে আসুন না দেশে, আপনি দাসখত লিখে মুচলেকা দিয়ে আর রাজনীতি করবেন না বলে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে যে সব চরে বালির পর বালি, ধু ধু বালি চর, লালমনিরহাট-তিস্তা-যমুনার চরসহ বিভিন্ন এলাকায় শুধু বালি ছাড়া আর কিছু না, সেসব এলাকায় মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদন হচ্ছে, এটি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও মেধার ফলে সম্ভব হয়েছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপি’র ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে, তারা যেন দেশে কোনও রকম সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে। তাদের সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে আগামী ২০২৪ সালের নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বেগম আখতার জাহান, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন, বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, মহানগর শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়ালী খান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মমিন, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া।
এদিকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শান্তি মিছিল এবং শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা’র নেতৃত্বে শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের শান্তি মিছিলে যোগ দেয়। নগরীর অলোকার মোড় থেকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের রানীরবাজারস্থ স্থায়ী কার্যালয়ে গিয়ে শান্তি মিছিল শেষ হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ নেতাকর্মীরা।









