বগুড়ার ধুনটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে মহিলা লীগের দুই নেত্রীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সড়কের একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে একজনের নাক ফেটে গেছে, অপরজন আহত হয়েছেন। দুজনই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ধুনট থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহত দুই নেত্রী হলেন উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক লিপি আকতার ও উপজেলা মহিলা লীগের নেত্রী কাউসার জাহান কেয়া। দুজনকেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দলীয় আধিপত্য বিস্তারসহ নানা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পপি রানী পোদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা জাহানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে দুই নেত্রীর পক্ষে নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করে আসছেন। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে মুজিব চত্বরের শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। মহিলা লীগের দুই পক্ষ আলাদাভাবে সেখানে ফুল দিতে আসেন। ফুল দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পপি রানী পোদ্দারের পক্ষের লিপি আকতার উপজেলা পরিষদ সড়কের পাশের হোটেলে খেতে যান। সেখানে সুলতানার পক্ষের কেয়া আগে থেকেই ছিলেন। সোমবার রাতের ঘটনার জের ধরে তাদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে লিপির নাক ফেটে যায়। কাউসার জাহান কেয়াও আহত হন। আহত দুই নেত্রীকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসক তাদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি পপি রানী পোদ্দার বলেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। এর জের ধরে হোটেলের মধ্যে লিপিকে মারধর করেছেন কাউসার জাহান কেয়া ও তার সহযোগীরা।
সাধারণ সম্পাদক সুলতানা জাহান বলেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় লিপি আমাদের ফুলের মালা ছিঁড়ে ফেলেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে লিপি আমার অনুসারী কাউসার জাহানকে মারধর করেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত মামলা হয়নি উল্লেখ করে ধুনট থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, মামলা হলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনও কোনও পক্ষ মামলা করেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলম বলেন, মহিলা লীগের দুই নেত্রীর মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। বিষয়টি মীমাংসা করে দেবো আমরা।









