জয়িতা পুরস্কার পাওয়া রাজশাহী জেলার একমাত্র নারী পত্রিকা বিক্রেতা দিল আফরোজ খুকিকে নগরীর মহিষবাথান এলাকার ‘মিশনারিস অব চ্যারিটি আশাদান মাদার তেরেসা আশ্রমে’ নেওয়া হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে তাকে আশ্রমে হস্তান্তর করা হয়।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বররে খুকি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। রাজশাহী সমাজসেবা অধিদফতের মাধ্যমে চিকিৎসার সুবিধার্থে তাকে ‘মিশনারিস অব চ্যারিটি আশাদান মাদার তেরেসা আশ্রমে’ হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে তিনি চিকিৎসা পাচ্ছেন। তার স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।’
তিনি জানান, রাজশাহী সিটি করপোশনের মেয়রের পক্ষে মেয়রের স্ত্রী ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেণী খুকিকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি খুকির উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘খুকি জেলার একমাত্র নারী সংবাদপত্র বিক্রেতা। তার বয়স প্রায় ৬০ বছর। দিনভর পরিশ্রম করলেও অনেক কষ্টে জীবনযাপন করতেন। ২০২০ সালে সোশাল মিডিয়ায় তার জীবন-সংগ্রামের একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসন তার পাশে দাঁড়ায়। এরপর ২০২০ সালে তিনি জয়িতার পুরস্কার পান।
রাজশাহী সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘খুকির অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় খবরের কাগজ বিক্রি করতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাস্তা থেকে এক পুলিশ কনস্টেবল তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর থেকে হাসপাতালেই ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার সেবার জন্য একজন মানুষ দরকার। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে মাদার তেরেসা হোমের সিস্টারদের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’
খুকি ৩০ বছরেরও বেশি সময় সংবাদপত্র বিক্রির কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খুকি রাজশাহীর শিরোইল এলাকায় থেকে খবরের কাগজ সংগ্রহ করে শহরের রাস্তায় পায়ে হেঁটে বিক্রি করতেন। এতে যে সামান্য আয় হতো সেটি সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য ব্যয় করতেন।’
মাদার তেরেসা হোমের সিস্টার জুয়ান বলেন, ‘সরকারি চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে। একজন চিকিৎসক নিয়মিত তাকে দেখছেন।’









