বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে সব রাজনৈতিক দল সমর্থন দিয়েছে। সবাই সহযোগিতা করতে চায়। কিন্তু প্রশাসনের মধ্যে এমন লোক আছে, যারা শেখ হাসিনার ১৫-১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন ফ্যাসিবাদ-লুণ্ঠনে সহায়তা করেছে, তারা একটি বিপ্লবী সরকারকে কখনও সমর্থন দিতে পারে না। তারা যদি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হয়, সচিব হয়, গুরুত্বপূর্ণ দফতরে বসে, তাহলে নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, এই সংস্কার বাস্তবায়ন হবে না। প্রশাসনে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা সব সংস্কার ব্যর্থ করে দেবে।’
রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরের ভুবন মোহন পার্কে ‘আমার বিএনপি পরিবারের’ আয়োজনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্য শেষে তাদের আর্থিক অনুদান দেয় দলটি।
ভারতকে উদ্দেশ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের বলে রাখি। আপনারা আশ্রয় দিচ্ছেন, ঠিক আছে। কিন্তু তার কথা শুনে যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কিছু করতে যান, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চান, তাহলে আপনাদের জন্য আখেরে ভালো হবে না। বাংলাদেশ সিকিমও নয়, ভুটানও নয়। ১৮ কোটি মানুষের দেশ। এটা পাশের দেশের নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে।’
শেখ হাসিনার উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে ১৮ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। আর ১৭ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এটা কিসের উন্নয়ন। উনি কী উন্নয়ন করেছেন? উনি তার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, লোকজনদের কালোটাকা বানানোর সুযোগ দিয়েছেন। সেই কালোটাকা তারা বিদেশে রেখে দিয়েছেন। কিন্তু হাসিনা ভুলে গেছেন, বিপদে পড়লে ঘনিষ্ঠজনরাও এগোয় না।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য জঘন্য কাজ করেছেন সচিব, ডিসি ও পুলিশ বিভাগসহ প্রশাসনের আরও অনেকে। তারা এখন অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় মদতে শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগের নেতারা এস আলম গ্রুপ এবং তার দোসররা দেশের টাকা অবাধে লুটপাট করে বিদেশে প্রচার করেছে। বিগত সরকারের আমলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই লাইসেন্স বাতিল করেছে। তবে সেই পিস্তল এখনও জমা দেয়নি এবং উদ্ধারও হয়নি। এগুলো উদ্ধার করতে হবে। না হলে তারা ঘাপটি মেরে থাকতে থাকতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আবারও গণতন্ত্র হুমকির মধ্যে পড়তে পারে। কারণ হাসিনা সরকারের আমলে আমলা থেকে নেতাকর্মীদের হাতে অনেক অবৈধ টাকা রয়েছে।’
রাজশাহী নগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলীর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব মামুন-অর-রশীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান (মিল্লাত), আশরাফ উদ্দিন (বকুল), আলমগীর কবীর, আহ্বায়ক আতিকুর রহমান (রুমন), বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুল, মৌলভীবাজার বিএনপির উপদেষ্টা ও কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক উপস্থিত ছিলেন।









