বগুড়া-৬ আসনে (সদর) উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই প্রার্থীর এজেন্টদের কাছ থেকে রেজাল্ট শিটে (ফলাফল বিবরণী) স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পাওয়ার পর ওই রেজাল্ট শিট ছিঁড়ে ফেলা হয়।
কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা করে রেজাল্ট শিটে প্রত্যেক প্রার্থীর এজেন্টের সই নিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নুরুল ইসলাম ভোট গ্রহণের শুরুতেই এজেন্টদের কাছে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নিতে শুরু করেন। বিষয়টি প্রচার হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক কেন্দ্রে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতেই বিতর্কিত ওই স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট ছিঁড়ে ফেলা হয়। এরপর নতুন রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হয়।
এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারচুপি ও ভোটের ফলাফল পাল্টানোর মাধ্যমে মাগুরা উপনির্বাচনের মতো আরেকটি পাতানো ও প্রহসনের নির্বাচন করার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া পৌরসভার মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আবিদুর রহমান অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা শুরু থেকেই প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীষকে জেতানোর নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল পাল্টাতে ভোট গ্রহণের আগেই এজেন্টদের কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শহরের সিটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা আগেভাগেই ব্যালট পেপারে সিল-স্বাক্ষর দিয়ে রেখেছেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, শুধু মালতিনগর নয়, সিটি স্কুল কেন্দ্রেও একইভাবে পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসাররা আগেভাগে ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে রেখেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বিশেষ একটি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন এবং তাদের সুবিধা দিচ্ছেন। পুলিশ, জেলা প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলেও রিটার্নিং অফিসার প্রশ্নবিদ্ধ। কোনও ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে এসব অনিয়মের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবিদুর রহমান সোহেল আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিছু কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা চলছে।
জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে ভিত্তিহীন।









