বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচনে ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের ফলাফলে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা।
উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ১০৫টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৫৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪১০ ভোট। অপরপ্রার্থী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ফুলকপি মার্কার আল আমিন তালুকদার পেয়েছেন ৩৮৭ ভোট।
বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ‘১৫০টি কেন্দ্র ও একটি পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রে ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোট পড়েছিল ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ।’
তিনি বলেন, ‘কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে গণনা।’
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া এ আসনের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আসনটিতে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৩৪ ভোট। সেইসঙ্গে তিনি ঢাকা-১৭ আসনেও বিজয়ী হন। পরে আসনটি ছেড়ে দেন।
বগুড়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসন। এখানে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ধানের শীষ, জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার ফুলকপি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র। আর জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারেক রহমানের ২ লাখ ১৬ হাজার ২৩৪ ভোটের বিপরীতে আবিদুর ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট পান।
আসনটি জিয়া পরিবারের জন্য ‘সংরক্ষিত’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি দখলে ছিল বিএনপির। ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হলেও শপথ নেননি। এবারের নির্বাচনে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হলেও আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন।









