নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের ল্যাপটপ ও ক্যামেরাসহ মূল্যবান জিনিসপত্রভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া যুবককে ধরিয়ে দিতে সহায়তাকারী ও সঠিক তথ্যদাতাদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৫)।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত যুবকের চেহারা শনাক্তের পর শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার ছবি সংবলিত পুরস্কার ঘোষণার পোস্টার লাগানো হয়। এসআরবি-৫-এর নাটোর ক্যাম্পের কমান্ডার হাফিজ আল আসাদ পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে সহায়তাকারীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার আশাও করছেন তারা।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ, সিআইডি, রেলওয়ে পুলিশ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। গোয়েন্দা তৎপরতাসহ সার্বিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তের বাড়ি অন্য এলাকায় হওয়ায় তাকে গ্রেফতারে কিছুটা সময় লাগছে।’
গত ৭ অক্টোবর বগুড়ার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পরিদর্শন শেষে ট্রেনে সান্তাহার হয়ে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে আসেন জার্মান নাগরিক ক্রিল ল্যান্ডার। এ সময় হলুদ ভেস্ট পরা এক যুবক নিজেকে রেলকর্মী পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ক্রিল ল্যান্ডার এটিএম থেকে টাকা তুলতে যাওয়ার আগে নিজের ব্যাগটি ওই যুবকের কাছে রেখে যান। ফিরে এসে তিনি ব্যাগসহ ওই যুবককে আর খুঁজে পাননি।
চুরি হওয়া ব্যাগে একটি ল্যাপটপ, ক্যামেরাসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করতে কিংবা এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুরি যাওয়া ল্যাপটপ ও ক্যামেরার খোঁজে বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে রাজশাহীতে যান ক্রিল ল্যান্ডার। ওই রাতে রাজশাহী রেলস্টেশনের একটি হোটেলে তার থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তিনি রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ছিলেন। তবে তার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই দিন বিকালে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকায় চলে যান তিনি।
সবশেষ ক্রিল ল্যান্ডারকে একটি ম্যাকবুক উপহার দেন রাজধানীর এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে ক্রিলের হাতে ম্যাকবুকটি তুলে দেন মুক্তি মাহমুদ। তার চাওয়া, বাংলাদেশ থেকে ফেরার আগে তরুণ এই পর্যটক যেন অন্তত কিছু ভালো স্মৃতি নিয়ে যেতে পারেন।
মুক্তি মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে এসে ১৮ বছর বয়সী এক বিদেশি পর্যটকের জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাওয়াটা আমাদের জন্য লজ্জার। বিষয়টি আমার খুব খারাপ লেগেছে। ওর বয়সী আমারও একটা ছেলে আছে। সে (ছেলে) বিদেশে পড়াশোনা করে। ছেলের কথা মনে হওয়ায় ঘটনাটি আমাকে আরও নাড়া দেয়। এজন্য তাকে একটি ম্যাকবুক উপহার দিয়েছি।’