রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে এসেছেন।
বিকাল ৩টায় রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পৌঁছানোয় সফরসূচিতে পরিবর্তন এনে সরাসরি নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জনসভাস্থলে পৌঁছান। এতে বাদ পড়ে নগরীর গণকপাড়ায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন ও সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নবিরতির কর্মসূচি।
সফরসূচি অনুযায়ী, এদিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। এরপর রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন ও সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নবিরতির পর জনসভায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে এসব কর্মসূচি বাতিল করে সরাসরি জনসভায় যান। ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহীর আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণেরও কর্মসূচি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহী নগরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে তার যাত্রাপথসহ বিভিন্ন সড়কে সংস্কার, পিচ ঢালাই ও রং করার কাজ করা হয়েছে। দেয়ালে আঁকা হয়েছে চিত্র, মেরামত করা হয়েছে ড্রেন। বিভিন্ন ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে যাত্রাপথ পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনসভার জন্য ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে তৈরি করা হয় বড় মঞ্চ। মাঠের উঁচু-নিচু অংশ সমান করার কাজও করা হয়। গত কয়েক দিন বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতির কাজ তদারকি করেন।
জনসভা বিকালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তারা জনসভাস্থলের দিকে আসেন। দুপুর আড়াইটার মধ্যে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর থেকেই মঞ্চে বিএনপির জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজশাহী সফর শেষে বিমানে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর আগে মঙ্গলবার সকালে তিনি রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন।
এদিকে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষা। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে দলীয় পতাকা। সকাল থেকেই রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন হাজারো মানুষ। নারী, পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে বিএনপির নেতাকর্মী—সবার চোখ সড়কের দিকে ছিল।
সবমিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার প্রত্যাশায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঢল নেমেছিল। পতাকা হাতে অপেক্ষমাণ মানুষের উচ্ছ্বাস আর নেতাকর্মীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি রাজশাহীতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থি আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।