ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে পরেছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। ভারতের অভ্যন্তরে পণ্যজট সৃষ্টি হওয়ার ফলে পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাকগুলো বন্দরে ঢুকতে বাড়তি সময় লাগছে। এর ফলে পেঁয়াজ পচে বিক্রির অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারকরা। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ট্রাকভাড়ার টাকাও উঠছে না বলে তারা জানান।
সরেজমিন পরিদর্শনে হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারকের গুদামঘরসহ পুরো এলাকায় ও সড়কগুলোর আশেপাশে বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আবার কোনও কোনও গুদাম থেকে এলাকার হতদরিদ্রদের মাঝে বিনামূল্যে কিছুটা পচে যাওয়া পেঁয়াজ দিতে দেখা গেছে।
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগে গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ার ফলে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।
গত ২৪ মে ৪০টি ট্রাকে ৮২৩ মেট্রিক টন, ২৫ মে ৩৩টি ট্রাকে ৬৬৯ মেট্রিক টন, ২৬ মে ১৩৭টি ট্রাকে ২৮২২ মেট্রিক টন, ২৮ মে ৯৭টি ট্রাকে ২০০৪ মেট্রিক টন, ২৯ মে ৭৭৯ মেট্রিক টন, ৩০ মে ৯০ টি ট্রাকে ১৭৮২ মেট্রিক টন, ৩১ মে ৫৫ টি ট্রাকে ৯৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
এভাবে গত সাতদিনে ৪৯১ টি ট্রাকে ৯৮৬৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। পুরো মে মাসে ১৭৬০ টি ট্রাকে ৩৫৫৭৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
আর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৫৫৫টি ট্রাকে ১০,৬০৮ মেট্রিক টন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৭১৪ টি ট্রাকে ১৩৮৮৬ মেট্রিক টন, মার্চ মাসে ৮০০ ট্রাকে ১৫৬৪৫ মেট্রিক টন, এপ্রিল মাসে ৯৩২ টি ট্রাকে ১৮৩৬৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকদের গুদাম ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সুজালপর, নাসিক, ইন্দো জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। আমদানিকৃত এসব পেঁয়াজের যেগুলো ভালো সেগুলো প্রকারভেদে পাইকারি প্রতি কেজি সাড়ে ১০ টাকা থেকে সাড়ে ১১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাংলা হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের পেঁয়াজ প্রকারভেদে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা দরে খুচরাভাবে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব পেঁয়াজ কেজিতে তিন টাকা থেকে পাঁচ টাকা বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে বাজারে দেশি পেঁয়াজ এখনও বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগেও একই ছিল।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মেসার্স মারিয়া কর্পোরেশনের সত্ত্বাধিকারী মো.মোবারক হোসেন জানান, এবার ভারতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে যার ফলে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের ব্যাপক সরবরাহ বেড়ে গেছে। সরকার পেঁয়াজ রফতানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম মূল্য প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পেঁয়াজের আমদানিও বেড়ে গেছে। অন্যদিকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে বোল্ডারসহ নানা ধরনের পাথর আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরে ব্যাপক পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছে। আগে যেখানে ট্রাক লোড করা থেকে শুরু করে বন্দরে ঢুকতে পাঁচদিন সময় লাগতো সেখানে দশ থেকে বারদিন লাগছে। এর ফলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের সহকারী ব্যাবস্থাপক এস,এম হায়দার বলেন, পেঁয়াজ আমদানিকারকরা যাতে অতি দ্রুত পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাকগুলো থেকে পণ্য খালাস করে বন্দর থেকে বের করে নিয়ে পারে, আমরা তার ব্যাবস্থা নিয়েছি। এছাড়াও পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ছুটির দিনেও বন্দর থেকে পণ্য খালাস করা হয়েছে। আগামীতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধুমাত্র পেঁয়াজকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ওই ট্রাকগুলো বন্দরের ভেতর আলাদা একটি জায়াগা রাখা হয়েছে যাতে সেগুলো নির্বিঘ্নে খালাস করে নিতে পারে।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার বেনাপোল শুল্ক বিভাগের কর্মীদের ছুটি বাতিল
/জেবি/টিএন/আপ-এআর/








