জোংড়া-পাটগ্রাম থেকে ফিরে

ধরলার ভাঙন: আতঙ্কিত বিলুপ্ত বাঁশকাটা ছিটমহলবাসী

মোয়াজ্জেম হোসেন,
২৯ জুন ২০১৬, ২০:৪২আপডেট : ২৯ জুন ২০১৬, ২১:৫১

. লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে খরস্রোতা ধরলা নদী। এ নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও রাস্তা হারিয়ে আতঙ্কিত বিলুপ্ত বাঁশকাটা ছিটমহলের বাসিন্দারা।  এমনকি আতঙ্কিত খোদ এইজিইডি অফিসের কর্মকর্তারাসহ পাটগ্রাম উপজেলা প্রশাসন।
কারণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থলবন্দর জাতীয় মহাসড়কের পাটগ্রাম পৌরসভাস্থ মির্জারকোট সরোর বাজার থেকে শুরু হয়ে জোংড়া সরকারেরহাট-বাউরা বাজার পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার আঞ্চলিক পাকা সড়কটি অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়।  ধরলার পাড় ভাঙতে ভাঙতে আঞ্চলিক এ সড়কটিও ধসে যাওয়ার উপক্রম। শিগগিরিই বাঁধ নির্মাণ করা না হলে যে কোনও মূহুর্তে নদী গর্ভে চলে যেতে পারে রাস্তাটির বড় অংশ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছোট বড় ১৮টি বিলুপ্ত ছিটমহল এ ইউনিয়নে যুক্ত হয়েছে। এসব ছিটমহলে প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের বাস। ধরলা নদীর কোল ঘেঁষে এসব বিলুপ্ত ছিটমহল। এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ধরলা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।

১১৯ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই ভাঙ্গছে ধরলা। বসতভিটা, আবাদি জমি-রাস্তা সবই নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে।  এ সময় তিনি শিগগির ধরলার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে  কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।  একই দাবি জানান এলাকার হৃদয় বর্মণ, আব্দুল খালেক ও ছালেহা খাতুন। 

.জোংড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদুন্নবী শাহিন বলেন, কাফিরবাজার এলাকায় আঞ্চলিক পাকা সড়কটি ধরলা নদীর ভাঙনে যে কোনও মূহুর্তে  বিলিন হয়ে যেতে পারে। সাবেক বাঁশকাটা ছিটমহলগুলোর আবাদি জমি, বসত ভিটা ও চলাচলের জন্য সড়কগুলো ধরলার ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে প্রশাসনকে।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী এটিএম শামসুজ্জামান জানান, মির্জারকোট সরোর বাজার-সরকারেরহাট-বাউরাগামী আঞ্চলিক সড়কটি কাফিরবাজার নামকস্থানে ধরলা নদীর ভাঙ্গনে কঠিন অবস্থার মুখে রয়েছে। দ্রুত প্রকেটশন বাঁধ দিতে না পারলে এবারের বর্ষায় যে কোনও মুহূর্তে উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে জোংড়া ইউনিয়ন। এতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কাফিরবাজার নামকস্থানে আঞ্চলিক পাকা রাস্তাটি ও সাবেক বাঁশকাটা ছিটমহলগুলো ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে পাইলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জুন জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আলোচনা হয়েছে।

/এসএনএইচ/এনএস/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের