প্রবল বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তা ও দুধকুমারের পানিও।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজীবপুর, নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলার দেড় শতাধিক চর ও দ্বীপচরের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনও ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি। ফলে বিশুদ্ধ পানিসহ খাদ্য সংকটের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে বন্যা দুর্গতরা। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
নদ-নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের মানুষজন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বন্যার কবলে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে তাদের। আর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন চলতে থাকায় বানভাসীদের অবস্থা আরও নাজুক।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন এবং রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে একের পর এক গ্রাম। সেই সঙ্গে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেই। নেই কোনও ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা দুর্গতদের জন্য ১শ মেট্রিক টন চাল ও ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও তা এখনও বিতরণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মজুদকৃত ত্রাণ বিতরণ না হলেও নতুন করে আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা ও দুধকুমারের পানি। এদিকে, বৃহস্পতিবার দিনভর মুষলধারে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে প্রতিটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
ফরিদপুরে জুয়েলারির দোকানে ডাকাতি হয় যেভাবে (ভিডিও)
/বিটি/








