আখ ক্ষেতে আগুনের ঘটনায় সাঁওতালদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
২১ নভেম্বর ২০১৬, ০২:৩৮আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৬, ০২:৪০

সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের ঘটনার দু’সপ্তা পার হতে না হতেই সেই খামারে গত শনিবারের (১৯ নভেম্বর) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ঘটনায় সাঁওতালদের মধ্যে আবারও নতুন করে মামলার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আখ ক্ষেতে আগুনের ঘটনায় সাঁওতালদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক

খামারের ডিজিএম আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে খামারের ফকিরগঞ্জ এলাকার ১১ আই ব্লকের জমিতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কিন্তু একই সঙ্গে পাঁচ থেকে ছয়টি জায়গায় এর সূত্রপাত হয়। কোনও দুর্ঘটনা হলে এক জায়গা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতো। তাই ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা এই আগুন লাগিয়েছে। এতে খামারের ৩৩ বিঘা জমির আখের ক্ষতি হয়। তাতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার আখ পুড়ে যায়।

ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, আখ ক্ষেতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি পক্ষ সাঁওতালদের দোষারোপ করছে যে, তাদের উচ্ছেদকৃত বসতি এলাকার আখ ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সাঁওতালরা মনে করছে তাদেরকে নতুন করে ফাঁসাতেই মিল কর্তৃপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আখ ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

তবে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, এ ঘটনায় আদিবাসীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। আখে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বা পুলিশি অভিযানও চালানো হয়নি।

চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আউয়াল জানান, মিল চালু থাকলে আগুনে পোড়া আখ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করেও চিনি উৎপাদন করা যেতো। কিন্তু মিল বন্ধ থাকায় সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।

আরও দুজন গ্রেফতার

অপরদিকে সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গুলি করে হত্যা ঘটনার রহস্যময় মামলায় রবিবার ভোরে আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এনিয়ে গত চার দিনে মোট ১২ জনকে আটক করা হল। আটককৃতরা হলেন উপজেলার নাসিরাবাদ গ্রামের জনি মিয়া (২৮) ও রানা মিয়া (৩২)।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, সাঁওতালদের পক্ষে স্বপন মুরমু নামে এক যুবক ওই ঘটনায় বুধবার গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা ৫/৬শ’ জনকে আসামী করে থানায় যে মামলা দায়ের করেন তাতে এ পর্যন্ত জড়িত সন্দেহে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্ত গুলিবিদ্ধ দুই সাঁওতাল ঢাকায়

সম্প্রতি জামিনে মুক্ত গুলিবিদ্ধ সাঁওতাল চরণ সরেন ও বিমল কিসকোকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। চরণ সরেন ও বিমল কিসকু পুলিশের তত্ত্বাবধানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে গত মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ তাদেরকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিয়ে আসে এবং আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠায়। এরপর তারা গত ১৮ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পায়। কিন্তু বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর আবারও তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

/এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান