ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দুপক্ষের সংঘর্ষে ভেস্তে গেল রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চলা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আলোচনা। আজ বুধবার দুপুরে ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে হাসপাতলের পরিচালকের কক্ষে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়।
এর আগে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আবু তাহের মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক প্রামাণিকের কক্ষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনায় বসেন শিক্ষকরা। বৈঠকে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. নুরন্নবী লাইজুসহ সিনিয়র শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, তারা পরিচালককে সোমবার ডা. মিলন ইন্টার্নি ডক্টরস হোস্টেলে ডা. ফারহানের নেতৃত্বে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. রাকিব ও ছাত্রলীগ নেতা রাসেলকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা জানিয়েছেন। তারা এ ঘটনার মূল হোতা ইন্টার্নি ডা. ফারহানকে বদলি করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়ার অনুরোধ জানান শিক্ষকরা।
তিনি আরও জানান, সকাল ১০ টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত বৈঠক করে শিক্ষকরা চলে যাওয়ার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অপর অংশ ফারহান গ্রুপের পক্ষে ডা. চন্দনের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক পরিচালকের কক্ষে যান। তারা দাবি করেন, ধর্মঘট আহ্বানকারী ডা. রাকিব গ্রুপের লোকজন সাধারণ ইন্টার্নি ডাক্তারদের ভয়ভীতি দেখানোয় তারা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এ জন্য তারা ডা. রাকিব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চলাকালে দুপুর পৌনে ১টার দিকে একদল ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিচালকের কক্ষে লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে দু’গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ সময় হাসপাতালে রোগীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সিনিয়র চিকিৎসকদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ইন্টার্নি ডাক্তারদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহারের আলোচনা ভেস্তে যায়।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. আনোয়ারুল হক জানান, আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের এক অংশের নেতা ফারহান ও উত্তমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ সংলগ্ন ডা. মিলন ইন্টারনি ডক্টরস হোস্টেলে হামলা চালিয়ে চারটি কক্ষ ভাঙচুর ও ল্যাপটপ, মোবাইলসহ মালামাল লুট করে। এ সময় হামলাকারীরা ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. রাকিব ও ছাত্রলীগ নেতা রাসেলকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় আরও তিন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে রমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দষ্টকালের ধর্মঘট চলছে।
আরও পড়ুন:
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা: রংপুর মেডিক্যালে ধর্মঘট
/বিটি/






