টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে হু হু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় গাইবান্ধার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জসহ চার উপজেলার নিম্নঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে এসব এলাকার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। টানা বৃষ্টিতে কর্মহীন পানিবন্দি এসব মানুষ খেয়ে না খেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। রবিবার (১৩ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ব্রক্ষপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ২৯ ও ঘাঘট নদীর পানি ব্রিজ রোড় পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে জেলায় আবারও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
পানি বৃদ্ধির কারণে গ্রামীণ কাঁচা সড়কসহ বেশ কিছু রাস্তা ডুবে গেছে। বিস্তীর্ণ এলাকার পাট, আমন বীজতলাসহ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে পারপার হতে গিয়ে আরও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মানুষ। পানি উঠায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
এদিকে, পানির প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়া-রতনপুর, বালাসীঘাটের কাইয়াঘাটসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনও সময় বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন করে আরও হাজারো ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
পানিবন্দি এসব মানুষের মধ্যে অনেকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে শেষ সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। এসব মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে রেলের জায়গা, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, ‘বন্যার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভানবাসী মানুষদের ত্রাণ সহায়তাসহ তাদের খোঁজখবর নিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন তদারকি করছে। বানভাসীদের তালিকা অনুযায়ী দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।’
/এফএস/
আরও পড়ুন-
কুড়িগ্রামে হু হু করে বাড়ছে পানি, নতুন এলাকা প্লাবিত








