রংপুরে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যাকাণ্ডের তিন বছর আজ (৩ অক্টোবর)। ২০১৫ সালের এই দিনে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারী গ্রামে জেএমবি সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে জাপানি নাগরিককে। এ মামলায় পাঁচ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ হলেও সাত মাসেও শুরু হয়নি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি। এদিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এক আসামিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে ঘটনার অন্তত ৭/৮ মাস আগে জঙ্গিরা রংপুর নগরীর নুরপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তাদের কিলিং অপারেশন শুরু করার পরিকল্পনা করে। তারা টার্গেট করে রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়া মহল্লায় বসবাসকারী জাপানি নাগরিক ওসি কুনিওকে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে রিকশায় নিজ ঘাসের খামারে যাওয়ার পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা জেএমবি সদস্যরা ওসি কুনিওকে গুলি করে হত্যা করে।
এ ঘটনায় ওই দিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জেএমবির সংশ্লিষ্টতা পায় পুলিশ। জঙ্গি মাসুদ রানাকে আটকের পর সে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও, কাউনিয়ার টেপা মধুপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ও মাজারের খাদেম রহমত আলীকে হত্যা এবং বাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনাসহ বিভিন্ন কিলিং মিশনে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে। শুধু তাই নয় মাসুদ রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সমস্ত ঘটনার বর্ণনা দেয়। সেইসঙ্গে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া জঙ্গিদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ আরও চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করে।
পরে তদন্ত শেষে মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন, লিটন মিয়া, আবু সাঈদ ও আহসান উল্লাহ আনছারীকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে আসামি রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ আনছারীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।
চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে শুরু হয়। মামলায় বাদীপক্ষে ৫৫ জন এবং আসামিপক্ষে একজন সাফাই সাক্ষীসহ ৫৬ জন সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ২৮ ফেরুয়ারি বিচারক পাঁচ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ দেন। আসামি আবু সাইদকে খালাস দেন আদালত।
রায় ঘোষণার সাত মাস অতিবাহিত হলেও পলাতক জঙ্গি আহসান উল্লাহ আনছারীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অন্যদিকে মামলার ডেড রেফারেন্স শুনানি এখনও শুরু হয়নি বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী পিপি আব্দুল মালেক বলেন, ‘এ মামলায় পাঁচ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ হয়েছে। আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেছে। আশা করছি দ্রুত মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার নেপথ্যের গড ফাদার জঙ্গি বাইক হাসান ও সাদ্দাম পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।’
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠক অ্যাডভোকেট তুহিন বলেন, ‘জঙ্গিদের যত দ্রুত সম্ভব ফাঁসির রায় কার্যকর করা উচিত। ’








