ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর ও মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় এখনও নির্মিত হয়নি কেন্দ্রী শহীদ মিনার। অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণে স্থানীয় নেতারা ও বিভিন্ন সময়ে শহীদ পরিবারের একাধিক সদস্য ক্ষমতাসীন থাকার পরেও কেন আজ পর্যন্ত সৈয়দপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি তার সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে জেলার সৈয়দপুর পৌরসভা বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করলেও শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি।
সৈয়দপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্ষমতার পালা বদলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতারা পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে কেউই শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্দ্যোগ নেননি।
এ দেশের ব্যতিক্রমী নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা শহর অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকা (বিহারী) প্রধান হওয়ার কারণে এখনও বাংলার পাশাপাশি উর্দু ভাষায় মাইকিং, মসজিদে বয়ান, পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা সভায় হচ্ছে উর্দু ভাষার ব্যাপক ব্যবহার।
স্থানীয়রা জানায়, সৈয়দপুরে রেলওয়ে কারখানায় দক্ষ শ্রমিক ও কর্মচারীর নিয়োগের সুবাদে ওই সময় ব্রিট্রিশরা ভারতের বিহার রাজ্য থেকে তাদের নিয়ে এসে চাকরি দেওয়ায় তারা সৈয়দপুরে বসতি গড়ে তোলেন। আর তখন থেকে বংশ পরম্পরায় সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে।
সৈয়দপুর উপজেলাবাসীর দাবি, বর্তমান সরকার অতি দ্রুত সৈয়দপুর উপজেলায় স্থানীয়ভাবে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তৈরি করে নতুন প্রজন্মের কাছে মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সফল কাহিনী তুলে ধরবে।
নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ আলহাজ শওকত চৌধুরী বলেন, ‘বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ চলছে। এগুলোর কাজ শেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারও তৈরি করে দৃশ্যমান কাজ হিসেবে দেখতে পাবেন এলাকার মানুষ।’ দীর্ঘদিন পর হলেও সৈয়দপুরে এগুলো নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এতদিনে জায়গা সংকট ও অর্থ বরাদ্দের কারণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে শহীদ মিনারের কাজ শুরু করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসছে আগামী মহান বিজয় দিবস সেখানেই পালন করা সম্ভব হবে।’








