রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য মাত্র চার ঘণ্টার মতো সময় পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মেধাক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে যারা ভর্তি হতে চান, মূলত তারা এই জটিলতায় পড়বেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, যোগ্য বিবেচিত হওয়ার পরও সময় স্বল্পতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই ভর্তি হতে পারবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বেরোবিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফল প্রকাশ করা হয় ৭ ডিসেম্বর। ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম মেধাক্রমের (ফার্স্ট লিস্ট) ভর্তিও শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ভর্তির জন্য মেধাক্রম থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ ছিল মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি)। সাক্ষাৎকারের ফল প্রকাশ করা হবে এদিন রাত ১০ দশটায়। এই ফল অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। অর্থাৎ ফল প্রকাশের পর ভর্তি শুরুর আগে সময় পাওয়া যাবে মাত্র ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। আর ভর্তির জন্য সময় পাওয়া যাবে মাত্র চার ঘণ্টা।
ভর্তির জন্য এত কম সময় বেঁধে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং সুযোগ পেয়ে ভর্তিও হয়ে গেছেন। কিন্তু বিষয় পছন্দ না হওয়ায় কেউ কেউ ভর্তি বাতিল করে সার্টিফিকেট তুলে এনে বেরোবিতে ভর্তি হবেন। এর জন্য কম করে তিন থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে। কোনোভাবেই ১০/১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ভর্তি হওয়া সম্ভব নয়। অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষেও ভর্তির জন্য স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব । সময় স্বল্পতার কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক পরিমল চন্দ্র বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই ভর্তি কার্যক্রম চলে আসছে। এছাড়া, পুরো বিষয়টি ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হচ্ছে। পরের বছর থেকে সময় বাড়ানো যেতে পারে।’ তবে কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।








