স্বাধীনতা যুদ্ধে ৬নং সেক্টরে যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বীরপ্রতীককে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কক্ষে বীরপ্রতীক আব্দুল হাইয়ের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন।
এ প্রসঙ্গে বীরপ্রতীক আব্দুল হাই বলেন, ‘আমি অত্যন্ত খুশি এবং আনন্দিত। জেলা প্রশাসক নিজে আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন তাতে আমি সব দুঃখ ভুলে গেছি।’
মুক্তিযুদ্ধে কেওয়ান এফএফ কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া এ মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, ‘নিজের মনের কথা সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে উপস্থাপন করতে পেরে অনেক হালকা লাগছে। আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্ত আমার সারাজীবন মনে থাকবে।’
এদিকে জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, বীরপ্রতীককে সম্মাননা দেওয়ার বিষয়টি ছবিসহ প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। এতে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসক মোছা.সুলতানা পারভীনের হাত থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুলের তোরা নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক আব্দুল হাই। এসময় তার পাশে স্ত্রী গুলশান আরা বেগম দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন বলেন, ‘আমার বাবাও একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি সবসময় চাই মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দিতে। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি (আব্দুল হাই) আমন্ত্রণপত্র পাননি জেনে আমিও অনেক দুঃখ পেয়েছি। তাকে নিজ হাতে সম্মাননা দেওয়াটা আমি আমার দায়িত্ব মনে করেছি। সে ভাবনা থেকে আজ তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়েছি।’
‘স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্র পাননি বীরপ্রতীক আব্দুল হাই’ এই শিরোনামে ২৬ মার্চ বাংলা ট্রিবিউনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্র না পাওয়ায় সেসময় ক্ষোভ প্রকাশ আব্দুল হাই বলেছিলেন, ‘আমি বঞ্চিতদের তালিকায়, নির্যাতিতদের তালিকায়। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ না জানানোটাও এক ধরনের নির্যাতনই বলা চলে।’
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় কুড়িগ্রাম। এদিন মুক্তিবাহিনীর কেওয়ান এফএফ কোম্পানি কমান্ডার বীরপ্রতীক আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে ৩৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল বিকাল ৪টায় কুড়িগ্রাম শহরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা নতুন শহরের ওভারহেড পানির ট্যাংকের ওপরে (বর্তমান সদর থানার উত্তরে অবস্থিত) স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেন বিজয় বার্তা।







