গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নিয়মনীতি না মেনেই কৃষি জমি দখল করে জনবসতি এলাকায় গড়ে তোলা ‘মা-বাবার দোয়া ব্রিকস’ নামের ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এ সময় নোটিশ টাঙিয়ে ওই ইটভাটার অফিস রুমটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
বুধবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমির হামজা ওই অভিযান পরিচালনা করেন। এতে সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ ও গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট অংশ নেয়।
এর আগে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কৃষি জমি দখল করে ইটভাটা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম শিবরাম গ্রামে চারপাশে ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকা। সেই ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকার মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মা-বাবার দোয়া ব্রিকস নামে ইটভাটা গড়ে তোলেন স্থানীয় এমদাদুল হক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নিয়ম না মেনেই কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করেন তিনি। জমি মালিকদের না জানিয়ে জোরপূর্ববক জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শুধু তাই নয়, অন্য এলাকার জমির কাগজপত্র দেখিয়ে পরিবেশ অধিদফতর ও কৃষি অফিসের ছাড়পত্র দেখিয়ে ভাটা নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
জমির মালিক মতিয়ার রহমান বলেন, ভাটা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে স্থানীয় প্রশাসন বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনও প্রতিকার মেলেনি। জনবসতি ও কৃষি জমিতে গড়ে ওঠা ইটভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হলে ক্ষতির মুখে পড়েন এলাকার কৃষকরা। ইটভাটায় অবাধে ট্রাক ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যান চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাঁচা-পাকা রাস্তাও। পরে বাধ্য হয়ে উচ্চ আদালতে ভাটা বন্ধের আবেদন করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমির হামজা ইটভাটাটি বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জমি দখল ও কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভুক্তভোগীরা উচ্চ আদালতে ভাটা বন্ধের আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে ভাটা বন্ধ করে অফিস রুম সিলগালা করে দেওয়া হয়। আইনি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইটভাটার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতেও নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’








