রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে সরকারপন্থী নীল দল সমর্থিত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নিজের অনুগত শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন নীল দল সমর্থিত শিক্ষকরা। আজ বুধবার (৩০ মে) এই আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৯ মে) উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও, অবস্থান ও স্মারকলিপি প্রদান করে নীল দল।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দুটি সংগঠন রয়েছে। দুটিই সরকার সমর্থক শিক্ষক সংগঠন। একটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ সমর্থিত, অপরটি তার বিরোধী নীল দল।
নীল দল সমর্থিত শিক্ষকদের অভিযোগ, শুধু নীল দল সমর্থন করায় কয়েকজন শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি দিচ্ছেন না উপাচার্য। এমনকি নীল দল থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিলে তাকে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছেন। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষকের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা সত্ত্বেও উপাচার্য প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের তিনজন ও নীল দল থেকে পদত্যাগকারী এক শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য বুধবার পদোন্নতি কমিটির সভা আহ্বান করেছেন। নীল দলের তিনজন শিক্ষককে তিনি পদোন্নতি না দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
নীল দল সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইবনে তাহের অভিযোগ করেন, সাতজন শিক্ষকের পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। উপাচার্য সমর্থিত প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নিশাত জামান, রসায়ন বিভাগের অভিনেষ সরকার ও ফিজিক্স বিভাগের ইসমিতা তাসমিনকে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য পদোন্নতি কমিটির সভা আহ্বান করেন উপাচার্য। অথচ একইভাবে পদোন্নতি পাওয়ার সব যোগ্যতা থাকার পরেও শুধু নীল দলের সমর্থক হওয়ায় মার্কেটিং বিভাগের নুরন্নবী ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের চার্লস ডারউইন, সমাজতত্ব বিভাগের আনোয়ার হোসেন ও অংকের ইসমাইল হোসেনকে পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরমধ্যে অংক বিভাগের ইসমাইল হোসেন নীল দল থেকে পদত্যাগ করায় তাকেসহ চারজনকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য আগামী ৩১ মে পদোন্নতি কমিটির সভা আহ্বান করা হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার নীল দলের শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিতাই কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইবনে তাহের উপাচার্যের সঙ্গে তার কক্ষে গিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন সবাইকে পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানালে উপাচার্য সভাপতির সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় নীল দলের শিক্ষকরা তাদের চেম্বারের সামনে আধঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট করে প্রতিবাদ জানালে উপাচার্য নানা অজুহাতে নীল দলের শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার কথা চেম্বার ছেড়ে চলে যান।
এদিকে শিক্ষকদের অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার উপাচার্য গোপনে ঢাকায় চলে যান। দুপুর ১২টায় আবারও নীল দলের শিক্ষকরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শেষ পর্যন্ত উপাচার্যের পিএস আমিনুর রহমানের কাছে তাদের দাবি দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। নীল দলের শিক্ষকরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেবেন বলে ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে নীল দল শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিতাই কুমার ঘোষ অভিযোগ করেন, সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এবং সব শর্তপূরণ করেও তাকেসহ নীল দলের আমির শরীফ ও শেখ মাজেদুল হককে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। চাকরি স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রেও চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নীল দলের শিক্ষকরা। ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক মুহুয়া শবনম , পরিসংখ্যান বিভাগের সুকান্ত কুমার, মার্কেটিং বিভাগের রকিবুল হাফিজ খান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাইফুল ইসলামের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। একইভাবে সাড়ে তিন বছর ধরে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার বিভাগের শিক্ষক কুন্তলা চৌধুরীকে চাকরি স্থায়ীকরণ প্রমোশন আপগ্রেডেশন দেওয়া হচ্ছে না। এভাবেই নীল দল শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে নীল দলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের ইবনে তাহের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নীল দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের অনুসারী শিক্ষকদের সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও উপাচার্য তাদের প্রতি অশোভন আচরণ করে চলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি উপাচার্য ঢাকায় গোপনে পদোন্নতি কমিটির সভা করার পাঁয়তারা করছেন। এটা করা হলে সেখানেও আমরা ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রতিবাদ করবো।’
এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।







