আশ্বিন মাসে শীতের আমেজ কিছুটা অনুভূত হওয়ার কথা থাকলেও, তার কোনও লেশমাত্র নেই বিভাগীয় শহর রংপুরে। গরম আর তীব্র রোদে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে লোড শেডিং। অন্যদিকে, গরমে ভাইরাস জ্বর ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রোদের মধ্যে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টি নেই রংপুরে। গত আগস্ট মাসে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৭২ মিলিমিটার। অথচ গত বছর আগস্ট মাসে বৃষ্টি হয়েছিল ৫৭৩ মিলিমিটার। চলতি মাসে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১২০ মিলিমিটার। তাপমাত্রাও বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে। গত সোমবার রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল, ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, রোদের প্রচণ্ড তাপে অসহনীয় গরমে জন জীবন একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। দুপুর ১২টার পর রোদের তাপ এত বেশি বেড়ে যায় যে, গরম বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করে। ফলে নগরীর সড়কগুলোতে যান চলাচল কমে যায়। রোদের মধ্যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হন না নগরবাসী।
অন্যদিকে, গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে লোড শেডিং। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘণ্টায় ঘণ্টায় পালা করে চলছে লোডশেডিং। ফলে একদিকে গরম, অন্যদিকে লোড শেডিং, জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আলী জানান, রংপুরে এবার তুলনামূলকভাবে বৃষ্টির পরিমাণ কম। তাপমাত্রা অনেক বেশি, ফলে গরম পড়ছে। তবে ২/৩ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রচণ্ড তাপ ও গরমের কারণে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাস জ্বর ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগবালাই। এ ব্যাপারে রংপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কানিজ সাবিহা বলেন, ‘বিরুপ আবহাওয়ায় প্রচণ্ড গরমের কারণে ভাইরাস জ্বর ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগবালাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এসময় বেশি করে পানি পান করতে হবে। রোদের মধ্যে শিশুরা যাতে বের না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেউ রোদে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে।’








