গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে একই ভোট কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহাবুব আরা বেগম গিনি ও ধানের শীষের প্রার্থী আবদুর রশিদ সরকার। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী আবদুর রশিদ সরকার। এর পরপরই একই কেন্দ্রে ভোট দেন মহাজোট ও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহাবুব আরা বেগম গিনি।
মাহাবুব আরা বেগম গিনি বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ। তিনি নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নৌকা প্রতীকে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়া আবদুর রশিদ সরকার জেলা জাপার সভাপতি ছিলেন। নির্বাচনে অংশ নিতে জাপা ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এর আগে জাপা থেকে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
তবে ভোট দেওয়ার পর আবদুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘মানুষ ঠিকভাবে ভোট দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’ এছাড়া নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ভয়ভীতিসহ নানা অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট হলে তার বিজয় নিশ্চিত।’
ভোট দেওয়া শেষে মাহাবুব আরা বেগম গিনি বলেন, ‘ভোটকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সুষ্ঠু পরিবেশে এসেই ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন ভোটাররা। জনগণের ভোটেই আবারও বিজয়ী হবো।’ এছাড়া তিনি বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিএনপি অধিকাংশ কেন্দ্রেই এজেন্ট দিতে পারেনি। তাদের এজেন্টদের হুমকি দেওয়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দিয়েছেন যার প্রমাণ তার কাছে আছে।’
এদিকে, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের মোট ১০১টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ১০১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে কামারজানি ও মোল্লারচর দুই ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ছয়টি। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থী ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আম প্রতীকে জিয়া জামান খাঁন, সিপিবির কাস্তে প্রতীকে মিহির ঘোষ, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে আল-আমিন ও ইসলামী ঐক্যজোটের মিনার প্রতীকে মাওলানা জুবায়ের আহমেদ।
একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটিতে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০৫ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬০ জন।







