লঘুচাপের প্রভাবে গত দু’দিন টানা বৃষ্টিপাতে হাকিমপুরসহ দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলার আলু ক্ষেতে পানি জমেছে। গত কয়েকদিনে রোপণ করা হয়েছে এমন বীজ পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষেত থেকে বীজ তুলে নিচ্ছেন কৃষকরা। এতে দ্বিগুণ পরিশ্রম আর খরচে বিপাকে পড়েছেন তারা। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়োবাতাসে উঠতি ধানগাছ হেলে পড়ায় ধান চাষিরাও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার প্রায় ৯৯০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার আলিহাট, বোয়ালদাড় ও খট্টামাধবপাড়া এলাকায় আলুর চাষাবাদ হলেও এর মধ্যে শুধু খট্টামাধবপাড়া এলাকায় আগাম জাতের আলুর চাষাবাদ হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে প্রায় একশ’ হেক্টর জমিতে আলুর বীজ রোপণ করা হয়েছে। গত দু’দিনের বৃষ্টিপাতে আলু চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। রক্ষা করতে জমি থেকে বীজ তুলে নিচ্ছেন তারা। উপজেলায় এই মৌসুমে ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়। বৃষ্টিপাত ও ঝড়োহাওয়ায় কিছু জমির ধান হেলে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া গ্রামের আলু চাষি আফজাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিবছরই বেশি লাভের আশায় আমরা আগাম জাতের আলু বীজ লাগায়। গত বুধবার সকালে আমার ৪০ শতক জমিতে রোমানা জাতের হাইব্রিড বীজ লাগিয়েছিলাম। পরদিন থেকে টানা বৃষ্টিপাতে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছি। জমি থেকে বীজগুলো তুলে না নিলে পচে নষ্ট হয়ে যাবে। আমার মতো অনেক কৃষক তাদের জমি থেকে রোপণ করা বীজ তুলে নিচ্ছেন।’
একই গ্রামের আলু চাষি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘এবার আমি ১৪ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছিলাম। এতে খরচ পড়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। গত দু‘দিনের টানা বৃষ্টিতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেলো।’
চেং গ্রামের কৃষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন সব গাছে ধানের শীষ বেরিয়ে গেছে। আর কয়েকদিনের মধ্যে পাকতে শুরু করবে। বৃষ্টি ও ঝড়োবাতাসে আমার কয়েক বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ হেলে পড়েছে। এই ধান কেটে গরুর খাওয়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।’
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা নাজনীন বলেন, ‘গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে রোপণ করা ১০০ হেক্টর জমির সব আলুর বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলোতে আবারও নতুন করে বীজ রোপণ করতে হবে। এ জন্য আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ধানের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ হেক্টর জমির ধান বাতাসে হেলে পড়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না।’








