নীলসাগরে অতিথি পাখির দেখা না পেয়ে দর্শনার্থীরা ক্ষুব্ধ

নীলফামারী প্রতিনিধি
৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:১৩আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:৪৩

অতিথি পাখি শূন্য নীলসাগর দীঘি

নীলফামারীর নীলসাগরে আদি নাম বিন্নাদীঘি। জেলার ভ্রমণ পিপাসু মানুষের অবসর ও সময় কাটানোর একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র এ নীলসাগর। এখানে প্রতি বছর সুদূর সাইবেরিয়া থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। নীলসাগর দীঘির চারপাশে নানা প্রজাতির গাছে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ও অতিথি পাখি দেখতে প্রতিদিন জেলার এবং জেলার বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভীর করে। এবার পৌষের মাঝামাঝিতেও অতিথি পাখির দেখা নেই। তাই ঘুরতে এসে অতিথি পাখির দেখা না পেয়ে ক্ষুব্ধ অনেক দর্শনার্থী।

জেলা সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা গ্রামের ৩৭ একর জমির ওপর খনন করা হয় নীলসাগর দীঘি। ১৯৯৮ সালে নীলফামারী জেলার নামানুসারে এ দীঘির নাম নীলসাগর রাখা হয়। নীলসাগর মূলত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য়ের জন্য বিখ্যাত। দীঘির চতুর্দিকে রয়েছে নারিকেল গাছ, বন বাবুল, আকাশমনি, লতাগুল্ম, দেবদারু ও শিশুসহ অজানা-অচেনা হরেক রকম ফুল ও ফলের সারি সারি গাছ। এ ছাড়াও পাশে রয়েছে শিশুদের খেলার জন্য একটি ছোট পার্ক। ১৯৯৮ সালে এই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়।

সেই সঙ্গে দর্শনার্থীদের বাড়তি নজর কাড়ে শীতকালিন অতিথি পাখিরা। প্রতি বছর শীতের শুরুতে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে দিঘীর চারপাশ। তবে চলতি বছরে তা ব্যতিক্রম। এবার অতিথি পাখিদের আগমন ঘটেনি নীলফামারীর পর্যটন স্পট নীলসাগর দীঘিতেও। পাখি দেখতে না পেয়ে নীলসাগর ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

নীলসাগর দীঘি এলাকা

দর্শনার্থীরা অতিথি পাখি না আসার পেছনে পাখিদের জন্য সুব্যবস্থা আর নিরাপত্তার অভাবকে দায়ি করলেও এলাকাবাসী বলছেন ভিন্ন কথা।

ওই গ্রামের বাসিন্দা যতিন চন্দ্র রায় (৬৩) বলেন, ‘প্রতি বছর অতিথি পাখি দেখার জন্য অনেক মানুষ ভীর করে। এ কারণে পাখিদের যথাযথ বিচরণের পরিবেশ নষ্ট হয়। এটা পাখি না আসার কারণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দর্শনার্থীদের ভিড় ও জটলা অতিথি পাখিদের ভিতু করে তুলেছে। তাই এবার খুব একটা পাখি দেখা যায়নি।’

দীঘির পাড়ের মন্দিরের পুরোহিত অমরেশ বর্মণ জানান, দর্শনার্থীদের উৎপাত বেড়েছে, অতিথি পাখিরা নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু এই দিঘীর চারপাশে দর্শনার্থীদের জটলা লেগেই থাকে। প্রতিদিন এখানে অতিথি পাখি দেখতে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। এসব দর্শনার্থী অতিথি পাখির ছবি তুলেন। আবার ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা টিল ছুড়ে, এতে অতিথি পাখির স্বাভাবিক বিচরণের পরিবেশ নষ্ট হয়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষে এসএ শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী দিনবন্ধু রায় বলেন, ‘এবার অতিথি পাখি কম এসেছে। অতিথি পাখিরা সাধারণত শীত মৌসুমের শুরুতে এসে পুরো শীত মৌসুম অবস্থান করে। আবার শীত শেষ হওয়ার আগেই  চলে যায়। এবার পাখিরা অনেক আগেই চলে গেছে।’

 

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান