করোনায় আক্রান্ত এক অন্তসত্ত্বা নারীর চিকিৎসা করে ৬ ডাক্তার ও ৯ নার্সকে কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের চার চিকিৎসক ও ৯ জন নার্স আছেন। এছাড়া রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা করা ক্লিনিকের ২ ডাক্তারকেও কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ও একটি ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা ওই নারী গর্ভকালীন জটিলতা নিয়ে ১৪ এপ্রিল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ১৭ এপ্রিল তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের (রমেক) পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ১৯ এপ্রিল ওই নারী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান ও শহরের এক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছে চিকিৎসা নেন। ওই চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন টেস্টের পরামর্শ দিলে রাতেই তিনি আবার হাসপাতালে আসেন ও চিকিৎসা নিয়ে শহরের বাড়িতে ফিরে যান। এ সময় হাসপাতালে তার আলট্রাসনোগ্রাফি ও কিছু পরীক্ষা দিলে তিনি বাইরের ক্লিনিকে পরীক্ষা করতে গিয়ে একজন সনোলজিস্ট ও প্যাথোলজিস্ট দু’জন ডাক্তারের সংস্পর্শে আসেন।
পরে জানা যায় ওই নারী করোনায় আক্রান্ত। এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন সন্ধ্যায় তার বাড়িতে ছুটে যান। এরমধ্যে তারা লকডাউন উপেক্ষা করে ওই নারী পঞ্চগড়ে চাকলাহাট গ্রামে বাবার বাড়ি চলে যান।
বিষয়টি পঞ্চগড়ের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনকে জানালে তাকে খুঁজে মঙ্গলবার রাতেই রংপুরে করোনার রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল জানান, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড জীবাণুমুক্ত করতে রোগীদের সার্জারি ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গাইনি ওয়ার্ডের দুই চিকিৎসক, ৯ জন নার্স ও ওই নারীর সংস্পর্শে আসা মেডিসিন বিভাগের দুই চিকিৎসককে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ও ঠাকুরগাঁও বিএমএ সভাপতি ডা. আবু খায়রুল কবীর জানান, আক্রান্ত রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা করানো ২ বেসরকারি ডাক্তারকেও কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের সবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনও ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ডাক্তার, টেকনিশিয়ানসহ সবাইকে শনাক্ত করে কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে।







