৪০তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রথম ও দ্বিতীয়স্থানে রয়েছেন রংপুর বিভাগের দুই কৃতি সন্তান। পরীক্ষায় প্রথম হয়ে অসামান্য কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট গ্রামের চিকিৎসক মাহফুজুর রহমানের ছেলে ডা. শাহ মুবদি-উন-নাফি। প্রচণ্ড সাধনা, ইচ্ছে শক্তি আর অধ্যাবসায় থাকলে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের কুতুববাস গ্রামের ডা. মালিহা সামিহা শশী। দু’জনই বিশেষ ৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত আছেন। ডা. নাফি রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আর ডা. শশী পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন।
প্রথম স্থান অধিকারের পর ডা. মুবদি-উন -নাফি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এ বিষয়ে আর তেমন কিছু না বললেও জানান তার স্বজনরা ফলাফল ঘোষণার পর বেশ আনন্দ আর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
নাফির বাবা মাহফুজুর রহমান বলেন, নাফি ছোটবেলা থেকে মেধাবী। তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোট কাল থেকে। এ জন্য ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়ায় আবারও ৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরিতে যোগদান করে। প্রায় দেড় বছর ধরে চাকরি করছে। তবে বিসিএস পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকারের বিষয়টি তাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে। আমরা চাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে সে দেশের মানুষের চিকিৎসা সেবা দিক।
ডা. নাফি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জেন হিসেবে কর্মরত আছেন। তার সহকর্মীরা তার ফলাফলে দারুণ খুশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান টিএইচও ডা. আশিক ফেরদৌস জানান অত্যন্ত মেধাবী, সৎ ও কর্তব্যপরায়ণ ডা. নাফির সাফল্যে আমরা গর্বিত।
জানা যায়, ডা. নাফি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। তিনি ঢাকার সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে এসএসসির পর নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। শিক্ষা জীবনে অসম্ভব মেধাবী নাফি এমবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চান্স পেয়েছিলেন।
অন্যদিকে ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের চৌধুরানী কুতুববাস গ্রামের ডা. মালিহা সামিহা শশী।
তার বাবা সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ রেলওয়ের ডেপুটি ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার অ্যান্ড চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে। তার মা সাবেক প্রধান শিক্ষক নাসিমা আখতার। ছোটভাই আর্মি ইউনিভার্সিটি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী।
ডা. শশী বলেন, বর্তমানে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে কাজ করছি। ৪০তম বিসিএসের ফলাফল ঘোষণা না হওয়ায় ৪২তম বিসিএসে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান করে দেড় বছর ধরে চাকরি করছি। স্বামী মাহে আলম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন বলে জানান তিনি।
ফলাফলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, বাবা-মার দোয়া ও উৎসাহে এবং স্বামীর অনুপ্রেরণায় আজকের সাফল্য এসেছে। তবে অধ্যাবসায় ও সাধনায় লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব বলে জানান তিনি।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এরপর ২০১২ সালে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন শশী। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ভবিষ্যতে গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চান তিনি।








