পরীক্ষামূলকভাবে গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ নৌপথে লঞ্চ চালুর প্রায় দুই মাসের মাথায় দেড় শতাধিক যাত্রী নিয়ে নাব্য সংকটে ডুবোচরে আটকে গেছে দুইটি লঞ্চ। এতে এই রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (৭ মে) সকালে ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ব্রহ্মপুত্র নদে এমভি মহব্বত নামে একটি লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যায়। পরে নৌকা ও স্পিডবোটযোগে লঞ্চে আটকা পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় রিভারস্টার নামে আরেকটি লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যায়।
লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মেহেদী হাসান জানান, নাব্য সংকটের কারণে প্রায়ই এই রুটে লঞ্চ বালুতে আটকে যায়। এবার এমনভাবে লঞ্চ দুটি ডুবোচরে আটকে গেছে ড্রেজিং ছাড়া কোনোভাবেই উদ্ধার সম্ভব নয়। এ অবস্থায় যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। নিয়মিত ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু থাকলে তবেই এই রুটে লঞ্চ চলাচল সম্ভব।
তিনি আরও জানান, ঈদযাত্রার মধ্যে লঞ্চ বন্ধ থাকার কারণে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। তা ছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ছোট ছোট নৌকায় এই নৌপথ পাড়ি দিচ্ছেন যাত্রীরা। এতে তাদের গুনতে হচ্ছে বেশি ভাড়া।
প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর চাপ কমানো এবং উত্তরবঙ্গের আট জেলার সঙ্গে যাতায়াত সহজ করতে বালাসী-বাহাদুরাবাদঘাট নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে গত ৮ মার্চ দুটি লঞ্চ চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
এর আগে, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে একনেকের এক সভায় বালাসীঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ নৌপথটি চালু করে ফেরিঘাট নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রথম ব্যয় ধরা হয়েছিল তখন ১২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
পরে সময়ে দুইবার সংশোধন করে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা খরচ করে বাস টার্মিনাল, টোল বুথ, পুলিশ ব্যারাক, ফায়ার সার্ভিস ও আনছার ব্যারাকসহ বেশ কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ’র কারিগরি কমিটি হঠাৎ করে নাব্য সংকট ও ২৬ কিলোমিটার বিশাল দূরত্বের নৌপথসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে নৌপথটি চলাচলে অনুপযোগী বলে প্রতিবেদন দেয়।









