বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অফিসে ঢুকে হিসাবরক্ষককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা ছাত্র সমাজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে। নাগেশ্বরী থানায় এ জিডি করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নাগেশ্বরী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হালিম। নাগেশ্বরী থানার ওসি নবীউল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে অভিযুক্ত জাহিদের দাবি, দালাল বলার প্রতিবাদ করার পরিপ্রেক্ষিতে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেননি তিনি।
জাহিদুল ইসলাম জাহিদ নাগেশ্বরী পৌর এলাকার বালাটারী গ্রামের ওমর আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ দুপুরে জাহিদ নাগেশ্বরী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে যান। এ সময় অন্য এক ব্যক্তির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা নিয়ে হিসাবরক্ষক সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে বিষয়টি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানতে পেরে পরের দিন (৫ মার্চ) নাগেশ্বরী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, জাহিদ বিভিন্ন সময় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিলিং ও ক্যাশ শাখার কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। গালাগালি ও হুমকি দিতেন। বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে কল করে লাইনম্যানদের গালাগালি করেন।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীদের দাবি, জাহিদ মূলত অন্যের বিষয়ে সুপারিশ নিয়ে অফিসে যাতায়াত করেন। প্রভাব খাটিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন। এসব নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীদের সঙ্গে প্রায়ই খারাপ আচরণ করেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তিনি বলেন, ‘সেদিন আমি একটি কাজে জোনাল অফিসে গেলে এলাকার এক বড় ভাই ও আমার দলীয় কর্মীর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণ জানতে চেয়েছি। বিষয়টি দেখতে সুপারিশ করেছি। এ সময় হিসাবরক্ষক আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তিনি আমাকে দালাল বলে গালি দিয়েছেন। এর প্রতিবাদ করলে আমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। কিন্তু আমি কাউকে হুমকি দিইনি। বরং হিসাবরক্ষক আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।’
থানায় জিডির বিষয়ে জাহিদ বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। আমরা বসে এটি মীমাংসা করে নেবো।’
নাগেশ্বরী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, ‘জাহিদ বিভিন্ন সময় অফিসের কর্মচারীদের হয়রানি করেন। আমি থানায় জিডি করেছি। বিস্তারিত জিডিতে উল্লেখ করেছি।’
ওসি নবীউল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








