দিনাজপুরের হিলিতে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া ও জ্বর-সর্দিসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্ক ও শিশুরা। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন। কিন্তু বেড সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের। রোগীদের চাপে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মানুষজন। সেইসঙ্গে ডায়রিয়া ও জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৬০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এ অবস্থায় বেড না রোগীদের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে তিন শতাধিক রোগী আসছেন প্রতিদিন; যা সাধারণ দিনে ছিল শতাধিক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রিক্তা পারভীন বলেন, ‘আমার মায়ের হঠাৎ পেটে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হচ্ছে। এতে একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি। স্যালাইন দেওয়ার পর এখন কিছুটা সুস্থ আছেন।’
হিলির বাসিন্দা নারগিস আকতার বলেন, ‘হঠাৎ প্রেশার বেড়ে যাওয়ায় চলাফেরা করতে পারছিলাম না। ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু বেড সংকট। তাই মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন কিছুটা সুস্থ আছি।’
মেয়েকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সালমা খাতুন বলেন, ‘হঠাৎ শিশুটির জ্বর ওঠে। সঙ্গে সর্দি-কাশি। এ অবস্থায় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছি। কিন্তু রোগী বেশি থাকায় বেড সংকট। তাই মেঝেতে থেকে চিকিৎসা করাচ্ছি।’
স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা আব্দুস সালাম বলেন, ‘ভর্তির পর থেকে চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে কিছুটা ভালো আছে। চিকিৎসক ওষুধ দিয়ে বলেছেন, আরও কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।’
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. কামরুন্নাহার আজাদী রিয়া বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ; দুই বিভাগেই রোগী বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
তবে এটি বিশেষ কোনও রোগের প্রাদুর্ভাব নয়, সব ধরনের রোগী বেড়েছে উল্লেখ করে ডা. কামরুন্নাহার বলেন, ‘রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসক-নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। ৫০ বেডের হাসপাতালে রোগী ভর্তি শতাধিক। এ জন্য মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা।’








