বিএনপির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের প্রথম দিন বিভাগীয় শহর রংপুরে মাঠে নেই দলের নেতাকর্মীরা। অবরোধের সমর্থনে মিছিল কিংবা কোনও সভা-সমাবেশ দেখা যায়নি। তাদের দলীয় কার্যালয় বন্ধ আছে। তবে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও স্কুল-কলেজ খোলা রয়েছে। দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ। যাত্রী সংকটে দূরপাল্লার বাস চলছে না বলে জানিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। তবে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলছে। এ অবস্থায় বিএনপির এই অবরোধ কর্মসূচিকে ব্যর্থ বলছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
রবিবার (০৫ নভেম্বর) দুপুরে বিভাগের সবচেয়ে বড় বাস টার্মিনাল রংপুর আন্তজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচল করলেও দূরপাল্লার বাস ছাড়ছে না। যাত্রীও কম দেখা গেছে।
বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, গত ২৯ অক্টোবর হরতালের দিন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু, সদস্যসচিব মাহফুজুন নবী ডনসহ চার নেতাকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরপর থেকে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ের দলীয় কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। কোনও নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে আসেন না। জেলার দুই শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের স্থলে শহীদুল ইসলাম মিজুকে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও আব্দুস সালামকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের কাউকে কার্যালয়ে দেখা যাচ্ছে না। তাদের অনুসারীদেরও কোনও তৎপরতা নেই। জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
অবরোধ ডেকে মাঠে না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রবিবার বিকাল পর্যন্ত গত দুই-তিন দিনে মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার আট উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কয়েকটি সাজানো ঘটনায় মামলা দায়ের করে দলের নেতাকর্মীদের ওসব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠাচ্ছে পুলিশ। এ অবস্থায় অবরোধে মাঠে নেই নেতাকর্মীরা। তবে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাধারণ মানুষ।’
তবে বিএনপির এই অবরোধ কর্মসূচি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানালেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল। তিনি বলেন, ‘২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের নামে বিএনপির তাণ্ডব, পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, প্রধান বিচারপতির বাসভবন ভাঙচুর এবং যানবাহনে আগুনসহ ধ্বংসলীলার ঘটনায় তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ। ফলে তাদের ডাকা অবরোধ কেউ মানছে না। এজন্য অবরোধ কর্মসূচি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।’
মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম বলেন, ‘মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দিনভর পাড়ামহল্লা এবং সড়কে পাহারা বসিয়েছেন। বিএনপিকে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না। আমরা তাদের মাঠে প্রতিরোধ করবো।’
রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি এ-মিডিয়া) মো. ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। কোনও ধরনের অরাজকতা কেউ করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।’








