গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিএনপি নেতা ময়নুল ইসলাম লিটুকে দুই রকমের তথ্য দিয়ে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কামারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ আর এম মাহফুজার রহমান রাশেদের বিরুদ্ধে।
এর মধ্যে প্রথম ইস্যু করা প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়, ময়নুল ইসলাম কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। আর দ্বিতীয় প্রত্যয়নপত্রে ময়নুল ইসলামকে কামারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, একই ব্যক্তির নামে ইস্যু করা দুই ধরনের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব-কর্তব্য ও ভূমিকা নিয়েও।
স্থানীয়রা বলছেন, একজন ব্যক্তির সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য কিংবা কোনও ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে এমন করা সমীচীন নয়। এ জন্য এই ঘটনায় অন্য কোনও রহস্য আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।
প্রত্যয়নপত্র নেওয়া ময়নুল ইসলাম লিটু (৪৭) কামারপাড়া ইউনিয়নের মধ্যহাটবামুনী গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি কামারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। সাদুল্লাপুর থানায় দায়ের হওয়া নাশকতার পরিকল্পনার মামলায় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পাঁচ দিন কারাভোগ করে গত সোমবার (২০ নভেম্বর) জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এর আগে, তার জামিনের জন্য আদালতে ইউপি চেয়ারম্যান এ আর এম মাহফুজার রহমান রাশেদ ও কামারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সরকার স্বাক্ষরিত দুটি প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করা হয়। গত ১৮ নভেম্বর আলাদা প্যাডে সিল-স্বাক্ষর করা দুই প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়েছে, ময়নুল ইসলাম কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে ঢাকায় কর্মরত আছেন।
এদিকে, বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে প্রতিবেদকের হাতে আসে ময়নুল ইসলামের নামে ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া দ্বিতীয় প্রত্যয়নপত্রটি। পরিষদের প্যাডে ১৮৮ নম্বর স্মারকে ইস্যু করা প্রত্যয়নপত্রে গত ২০ নভেম্বর স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান। ওই প্রত্যয়নপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃতপক্ষে ময়নুল ইসলাম কামারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে, ১৮৭ নম্বর স্মারকমূলে ভুলবশত ও অনিচ্ছাকৃত একটি প্রত্যয়নপত্র তাকে দেওয়া হয়েছে।
দুটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে কামারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ আর এম মাহফুজার রহমান রাশেদ বলেন, প্রথমে ময়নুল ইসলামকে প্রত্যয়নপত্রটি না জেনেই দিয়েছি। পরে তার সম্পর্কে জানার পর নতুন আরেকটি প্রত্যয়নপত্র দেই। মূলত ময়নুল ইসলাম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তিনি কামারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির পদে আছেন।









